যে জন "করে" র ভার বোঝে না।সোস্যাল-সিকিউরিটি ছাড়া "মাঝখানে" তার লেনাদেনা।।

আজ উত্তমকুমার এর মৃত্যু দিন, ঠিক আছে ওনাকে স্মরণ করে প্রণাম করে অধমের সাথে ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে তফাতে থাকতেই পারেন। ওহ, বুঝলেন না? আপনি তো মধ্যম,

ঐ তফাতে চলতে একটু ভালোবাসেন। তা আমার-আপনার মতো দেশের এই তফাতে চলা শ্রেনী টাকে "নির্মল" সুরে মধ্যবিত্ত বলে ডাকে। আচ্ছা বলুন তো দেশে এখন মধ্যবিত্ত কি ভূমিকা পালন করে ? ভেবে দেখলেন? হ্যা ঠিক ভেবেছেন! 
দেশে মধ্যবিত্তের অবস্থাটা উইকেট কিপার এর মতোন- থ্যাঙ্কলেস জব। সারাজীবন উবু হয়ে বসে ব্যাকআপ দিয়ে যাচ্ছে দেশ কে। ভেবে দেখুন তো এই শ্রেণী টা কিন্তু দেশে সব থেকে বেশী নিয়ম-আইন-কানুন মেনে চলে, নিয়ম করে আয়কর প্রদান করে- নিয়ম করে সেই কর দেওয়ার পরে উন্মুক্ত নিজস্ব টাকায় আবার অন্য "করে" রা যাতে পুনরায় ঘুরে ফিরে ভাগ বসায় সেই কথাও ভাবে। ঐ যে নির্মলার প্রথম গতি সূত্র- সঞ্চয় করলেও কর দাও, সঞ্চয় না করলে?তখন আসবে করের নিত্যতাসূত্র- খরচ করবে? হ্যা তাতেও দাও কর - দাও, খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানের কর, দাও বস্তু সামগ্রী কর।ওদিকে মধ্যবিত্ত র প্রিয় রিংটোন বেজে ওঠে - "আরো অরো প্রভু আরো, এমনি করে আমায় মারো"। প্রভু নির্মল চিত্তে নির্মম লাল ফাইলে ইকিড়-মিকিড় খেলে নতুন নতুন করের মায়াবন্ধনে বাঁধে বন্ধু।
দেশের উন্নতি-খয়রাতি এবং প্রতিবেশী রাজ্য থেকে পাশের দেশের প্রতি এক অলিখিত দায় দায়িত্ব বর্তায় মধ্যবিত্তর করের হাওয়ায়। তাও এঁরা- মধ্যবিত্তরা, রাহুল দ্রভিদ এর ইনিংস এর মতোন দেশের পাশে মিস্টার ডিপেণ্ডবল হয়ে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে। এদের জন্য পুরষ্কার-অভিবাদন নেই,ওহ না ওটাও নেই! আরে পাগলা, এদেশে চাকরী গেলে হয়তো বহুক্লেশে চাকরী পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু চাকরী বিহীন সময়ে পূর্ববর্তী করদাতার "সামাজিক সুরক্ষা" পাওয়া যায়না! সমাজিক সুরক্ষা- সেটা আবার কি? ওগুলো বিদেশের মধ্যবিত্তের রূপকথা। ওরা ভরপেট খায়, ট্যাক্স ও দেয় আবার চাকরী চলে গেলে বা চাকরী না থাকলে সরকার থেকে সেই সময়ে সুরক্ষাও পায়।
হমম, সোস্যাল সিকিউরিটি তো এদেশে হয় না! আজ দেশ কে গুচ্ছ খানেক ট্যাক্স দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে যে মধ্যবিত্ত, তাঁকে দেশ কর্মহীন কালে জীবনপুরের পথিক বানিয়ে দিয়েছে- "সবাইকে পার করে মধ্যবিত্ত, কিন্ত মধ্যবিত্ত কে করে পার?"
আচ্ছা কখনো আকাশ থেকে টুপ করে রাহুল দ্রাবিড় যদি গব্বর সিং হয়ে যায় কি হবে বলুনতো?-
"সারা দেশ কে এতো কিছু দেই, তার পরিবর্তে একটা সোস্যল সিকিউরিটি চাওয়া টা কি ভুল? কাজ চলে গেলেও বেঁচে থাকার অর্থ চাওয়া টা কি অন্যায়! "না কোনো অন্যায় না"-ওহ এতোটাও জোরে মধ্যবিত্ত হাঁকে-না-কি-ডাকে-না ,কাউকে সে কাটে-না। ধুশ, এঁরা ঢূসঢাস ও করেনা- বাবু"শ্রী"রাম এর ঠান্ডা সাপ এঁরা।
ওহ- খূঁজে দেখছেন ইতিহাসের পাতায় এমন কোনো কেস আছে নাকি? আছে! যাদের টাকায় দেশ চলতো শেষে তাদের উপরেই অত্যাচার যুগে যুগে হোতো! ঐ ইহুদি জাতির কেসগুলো আর কি।
এই রে দেখেছেন আপনি মনে-মনে হেসে ভাবতে শুরু করলেন আপনিও ইহুদিদের মতো বিপ্লব স্পন্দিত চিত্তে আজকের ইজরায়েল তৈরী করবেন! না আপনার মনে স্পন্দন জাগ্রত হলেও উদ্যমে স্পন্ডেলাইটিস! অগত্যা, আশায় বাঁচে চাষা - ওহ দু:খিতো, আবার ভুল বললাম। চাষারাও মধ্যবিত্ত দের থেকে এগিয়ে। ঐ ভুলভুলৈয়া আইন দেখলে চাষা রা সব উল্টেপাল্টে দেয় নিজদের চেতনায়- কারোর ধার ধারে না।
হ্যা, কি আর করা যাবে আপনি মধ্যবিত্ত। আপনি উইকেট কিপার এর মতোন হাতদুটো পেতে সরকার কে-দেশ কে ভেংচি কাটুন- আর আশা করুন আপনার মধ্যেও গব্বর সিং- ইহুদি আরো ইত্যাদি রা টুকিটুকি খেলে বেড়াক। শেষ অব্ধি অসাড় আশার চাতক মনে তাকিয়ে থাকবেন কবে আষাঢ় মেঘলা আকাশ থেকে দুই ফোঁটা বাজেট আপনার কর ভেজাবে- ততোক্ষণ আসছে বছর আবার হবে, আপনি কর গুণে গুণে "কর" দিয়ে যান, প্লিজ।।

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। ২৪ জুলাই ২০২৪।।

ছবি ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত: 





মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"