এসো হে ঋতু এসো রচনা। অনেক পুণ্যে এই ফল ছিলো পাওনা।।

এসো হে ঋতু এসো রচনা।
অনেক পুণ্যে এই ফল ছিলো পাওনা।।

ঐ রচনা আর ঋতুর কথা বলছিলাম। এইটি হোলো অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি বিষয়।
আহা না, ধোয়ার আড়ালে অদ্ভুৎ অট্টহাস্যর এক নম্বর দিদি- অভিনেত্রী দের কথা না। এটা হোলো প্রকৃতি পর্যায়ে।এইতো বুঝে গেছেন নিশ্চয়ই। ঠিক ধরেছেন-  এটা হোলো বার্ষিক বা ষান্মাসিক পরীক্ষায় পর্যায় ক্রমে আসা কমন রচনা-  "তোমার প্রিয় ঋতু"। এই গরম তাপপ্রবাহে হঠাৎ মনে পড়ল এই বিষয়টা।মনে পড়ছে?  ভূমিকাতে সেই গ্রীষ্মকাল থেকে শুরু করে টুক টুক করে বর্ষা,শরত, হেমন্ত শীত ও বসন্ত হয়ে আমরা ছয় ঋতু কে খাতার পাতায় তুলে ধরতাম। তারপর টুক করে কর্ড লাইন ধরে  প্রিয় ঋতুর নাম টা উল্লেখ করতাম আমরা সবাই। হঠাৎ মনে পড়ল একবার আমি এই কমন রচনায় একটা আনকমন কাজ করে এসেছিলাম। সেদিন সবাই যেখানে শরত - বসন্ত এর মধ্যে বাইনরি তে পছন্দ করেছে, কয়েক জন শীত নিয়েও লিখেছে- আমি ভাবলাম একটা ব্যতিক্রমী কিছু লিখি। বর্ষা কালে যেহেতু বিকেলে খেলা যেত না তাই তখন বর্ষা কাল কে দুই চক্ষে দেখতে পারতাম না। অতএব থোড়া সা হাটকে কিছু লিখতে গিয়ে খাতায় লিপিবদ্ধ করলাম- গ্রীষ্মকাল প্রিয় ঋতু। এতো বছর পরে ঋতুর দল চেঞ্জ করে ভাবলাম এইবার শ্বাস খুলে অনেক কিছু লিখি- ঐ এক চর্বিতচর্বণ লিখে দলে আর শ্বাস নিতে পারছিলাম না ।
যাই হোক, লেখা তো শুরু হোলো। বেশ ভালো ভালো কথা দুই তিন লাইন লিখেও দিলাম হুড়োহুড়ি করে- ফুটবল, নতুন বই এর গন্ধ, গরমের ছুটি ,বেড়াতে যাওয়া,পয়লাবৈশাখ-হালখাতা,ফলের রাজা আম, আরো অনেক মিষ্টি ফল আর ২৫ শে বৈশাখ। উত্তেজিত হয়ে প্রথম দুই তিন লাইন লেখার পরেই বুঝতে পারলাম ভোটের ইস্তেহার আর পাচ বছরের কাজের মতোন অবস্থায় ফেঁসে গেছি। এর পরে মাথা থেকে আর সুখ্যাতি এগোচ্ছে না- চুপ হয়ে গেলাম! ঠিক আজকের দুপুরের মতন। আজ যেভাবে শুধু ধূ ধূ লু এর মতন গরম হাওয়া বয়ে যাচ্ছে ঠিক সেদিন খাতার উপর দিয়ে লেখার বিষয়ও শুকিয়ে গিয়েছিল। মনে হয়েছিল উত্তেজিত হয়ে গ্রীষ্ম কাল না ধরলেই হোতো! ভালো কিছু সেদিন আর লিখতে পারলাম না গরম কালের উপর।
কিন্তু আজ? আজ যদি লিখতে বসতাম তাহলে হয়ত অনেক কিছুই লিখতাম। হ্যা গরমের দিনে ভালো কিছুর কথাই বলছি! ভাবছেন এ কি আহাম্মক রে! হমম, হয়তো ঠিকই ভাবছেন। আসলে সেদিনই আহাম্মক ছিলাম। সেদিন তো ভাবিনি কুড়ি তিরিশ বছর পরে এক রৌদ্র তপ্ত দুপুরে এসির মধ্যে এস্কিমো সেজে লিখতে হবে! সেদিন ভুল করেছিলাম! আর, কিছু না লিখে, ভুল করেছিলাম। সেদিন তো লিখতে পারতাম গরম কাল হোলো সমঝে চলার সময়- একটা পরিকল্পনার কাল।সেদিন তো লিখিনি এলাকার হাজার হাজার গাছ উড়িয়ে দিতে গেলে নিজদের অগ্নিশর্মা হয়ে বিরোধ করতে হবে, সেদিন একটাও গাছ কে বাচিয়ে রাখার কথা ভাবিনি, একের পর এক গাছের সারি কে উড়িয়ে সারি সারি ফ্ল্যাট উঠলেও একবারো "সরি" তো বলিনি, একের বদলে চারটে নতুন গাছের দাবি তো জানাই নি- তা না হলে নতুন পরিকল্পনা সিদ্ধিলাভ করবে না!  তিরিশ বছর ধরে এই লেখার সময় দিয়েছিল গ্রীষ্মকাল। এখন সে সেই খাতা টা চেক করছে। কড়া মাস্টারমশাইর মতন, ভুল গুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাচ্ছে।
রচনায় লেখা সেই সর্বসাধারণ লাইন টা মনে পড়ছে? - "তপ্ত তাপস সে, সব কিছু পুড়িয়ে নতুন কিছু সৃষ্টির জন্য বর্ষা কে ডেকে আনে"। সে তো রুদ্র রূপে সংস্থিতা, তাঁকে যে শুধু কিছু কচি পাতা-গাছ নৈবিদ্য দিলেই সে আশুতোষ-ভোলানাথ এর মতন শান্ত হয়ে চুপহয়ে যেতো। আমরা নতুন গাছ লাগাই নি, কচি পাতা র যায়গায় কাঁচি র ব্যবহার করে গেছি।
আজ এসি ঘরে বসে সঠিক সমাধান হিসাবে ভেবে যাচ্ছি অনেক বৃক্ষরোপণ করি;
কিন্তু গ্রীষ্ম স্যর হেসে বলছে হে বৎস- তিষ্ঠ ক্ষণকাল। আমি আরেকটু পুড়িয়ে পরিবেশ অবহেলার পাঠ পড়িয়ে নেই তারপর দুই মাস পরে বেঁচে থাকলে গাছ লাগাস যত্ত খুশী। এখন নতুন গাছ লাগালে সেই গাছ আর তোদের উৎসাহ দুটোই বেঘোরে মারা পড়বে।তাই, আর কটা দিন সবুর করো গরম করে দিই!যতোক্ষণ ডাল ভাতের মতন এসি র ভিতর থাকা টা লাক্সারি না হয়ে নেসেসিটিতে পরিণত হচ্ছে, ততোক্ষণ আরেকটু তাপ বাড়িয়ে দেই।

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২৭/০৪/২০২৩


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"