নীল পুজোর সাথে ছাতু উড়ানো।সাথে থাকুক অনেক বিচিত্র খাবার বানানো।।
বাংলা বছরের শেষ দুইদিন বাড়িতে একটু অন্য ধরনের আমেজ। একদিকে পুজো পার্বণ আরেকদিকে পারিবারিক নিয়ম ঐতিহ্য । সাথে দুই দিনের বেশ অন্যরকম খাওয়া দাওয়া। এই যেমন নীল পুজো তে বাড়ির পুত্রের মায়েরা একসাথে বেশ ঘটা করে নির্জলা উপোস করবে। হাজার প্রচেষ্টাতেও সেই নিয়মে খেদ দিয়ে কিছু খেয়ে বা জলপান এর প্রস্তাব কে মা-বৌমা দুজনেই ভস্মীভূত করে দেয়।যাই হোক, আমার ও বাকি তিন জনের আসল নজর থাকে পুজো শেষ এর জল ঢালার পরের সেই পুণ্য লগ্নের। একে একে প্রসাদ হিসাবে থালায় উঁকি দেয় সেই সব বিরল বাত্সরিক খাবার গুলো।আহা, বেল এর শরবত- চালকলা দই গুজিয়া দিয়ে মাখা-ভেজা ডাল মাখা আর তারপরে সেই বিখ্যাত প্রতিক্ষিত খাবার টা- তুমি আসবে বলেই: এক বাটি সাবুদানা মাখা। দুধ-কলা-সন্দেশ- নতুন তালের গুড় আরো কতো কি মিলে মিশে মন পেট দুটোই ভরিয়ে তোলে।
যাই হোক, এতো গেলো নীল পুজোর দিনের খাদ্য বিবরণ । এর পরের দিন আরো দুটি আনুষ্ঠানিক বছর বিদায় পর্ব পালন করা হয়। স্নানের পরে বাড়ির ক্ষুদে র মাধ্যমে ঘটে এই পারিবারিক প্রথা টি। এক হাতে ছাতু আর আরেক হাতে ছাই নিয়ে ধোনির মতন স্টান্স নিয়ে উইকেট না দেখে একে একে শত্রু কে ছাই দিয়ে নিধন আর মিত্র কে ছাতু দিয়ে বরণ করতে হবে। একসময়ে আমি করেছি, তারপর ভাই এর পালা ছিলো। এখন সেই কাজ টি করছে পুত্র। বাড়ির মধ্যে সবার ছোট হয়েও এই একটা কাজে তারই শুধু অধিকার আছে, এই বিষয়ে সে নিজেকে আরো একটু বড়ো ভেবে ফেলে একটু দায়িত্বশীলও। অন্যদিন যেখানে ঘুম ভাঙ্গে না ছুটির দিনে সেইখানে আজ সাত সকালে উঠে বসে আছে ছাতু ওড়াবে বোলে। এই উড়ন পর্বের পরে দই-কলা-মিষ্টি-তাল পাটালি সহ ছাতু মাখা হয়। এই ছাতুটার একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। এই ছাতু হতে হবে খই থেকে, ছোলা বা যব এর পরিচিত ছাতু না। আগে দিদা কে দেখতাম কিলোর পর কিলো ছাতু তৈরী করত হামান দিস্তা দিয়ে। এখন দিদাও নেই আর সেই হামান দিস্তাও সেই ভাবে ব্যবহৃত হয় না- বরং মিক্সার গ্রাইন্ডারে খই ভেঙ্গে ছাতু তৈরী হচ্ছে ঘরেই। সময়ের সাথে পদ্ধতি পরিবর্তিত হলেও ছাতু উৎসবের ঐতিহ্য টা এখনো চলছে, আমি-ভাই এর পরে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে ও সংক্রান্তি তে ছাতু উঠছে।
এরপরে আসছে আজকের বিভিন্ন খাদ্য বাহার। সংক্রান্তি তে আমরা বছরের প্রথম টক বা কাঁচা আম খাওয়া শুরু করি, আগের দিন নীল পুজোতে আম দেওয়ার পরে সংক্রান্তির দিন আমের টক ডাল-চাটনি, তেতোর ডাল, সাথে আরো নিরামিষ আইটেম। যদিও আজ নিরামিষ কিন্তু ঠিক আছে,আজকের একদিনের জন্য। এর ঠিক বিপরীতমুখী মেনুর জ্ন্য পয়লা বৈশাখ তো রয়েছেই। ফরিদপুরি দিদার হাতের ছাতুর মতন আরেকটা জিনিষ ও হারিয়ে গেছে -নোয়াখালির ঠাকুমার হাতের পাচন। পূর্বপুরুষ এর পূর্ব-পশ্চিমে ঢলে পড়ায় হয়তো বিশুদ্ধ পাচন আজ ইতিহাস। তাই সেই কথা মনে রেখে আজকের জন্য অন্য অনেক নিরামিষ কে না হয় বুকেই টেনে নিলাম।
আগামীকাল তো নতুন শুরু, পয়লা বৈশাখের পুণ্যলগ্নে মাছ-মাংস এর সাথে বিকেলের হাল খাতার প্র্স্তুতি টাও তো দরকার।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন