আলিবাবার আনন্দ জগৎ এ হঠাৎ চল্লিশ টা বছর চুরি করে ঘুরে এলাম এই দিনে

মা বাবার ৪০ বছরের বিবাহবার্ষিকী তে মনে হোলো এই ছবি গুলোর মাধ্যমে সেই দিনটা একটু ঘুরে ফিরে দেখা যাক.. 

১। চিরন্তন বন্ধন।
২। গাড়ি করে বর এলোরে, আপনারা সবাই বর দেখুন। আমি বরং অকাশী রঙের এম্বাসাডার এ চড়ে একটু পুরনো দিন ঘুরে আসি। 
বাবার পাশে প্রশান্ত কাকু, সত্যম কাকু, টিটো কাকু, স্বপন কাকু। পেছনে সমর কাকু, আর জ্যঠুর সোয়েটার দেখতে পাচ্ছি মুখ ঘুরিযে উল্টো দিকে। বাকি কাকু দের দল চিন্তে পারছি না।
বর কে বরণ করতে এসেছে মেজোদিদা, দিদিভাই, মেজোবৌদি, ভাইদিদা।
৩। বরের সাজ পরিবর্তন - গদু কাকু বাবার বন্ধু সাহায্য করছে। বাবুয়া মামা, মীনা মাসী, কাকুমনির মা- গীতা দিদা( এই দিদা কে আমি দেখিনি তাই- ভাইদিদা, দিদিভাই , দিদুন এর এই বোনের কোনো মিষ্টি নাম ধরে ডাকতে পারলাম না)
৪। তিন প্রজন্ম - ভালোবাসা আজন্ম। মা-নাতনি-মেয়ে এইভাবেই সাজাই.. 
আমার বড়মা, মা আর দিদুন। মা কিন্তু বেশ হাসছে।
৫। দাদু (ঠাকুর্দা) আশীর্বাদ করছে মা কে। সেজো জ্যমা পাশে।
৬।বড়দাদু ভাই সম্প্রদানে বসেছে। বাবা হঠাৎ ধোনি সেজেছে কেন? ও ঐ যুগে তো কিরমানি কিপার। বিয়ে দিচ্ছে দিদুন বাড়ির বংশ পরম্পরায় কুলো পুরোহিত দিগম্বর ঠাকুর।
এই লিনিয়েজ কিন্তু এখনো চলছে- দিদার বাড়ির দিকে আমার, বোনের(রোজি-অলিভিয়া), ভাই (টুবাই-নবারুণের) তিনজনের বিয়ে তে পৌরহিত্য করেছে দিগম্বর দাদুর ছেলে দীপক মামা।

৭। বর হাসছে, বউ হাসছে - সাথে সাথে সবাই হাসছে ; মালা গলায় উঠছে। চারিদিকে আলোয় ভরে উঠছে।
৮। এইতো খুঁজে পেয়েছি মামণি কে, পিছনে বসে। এই বিয়ে গুলোতে অত্ভুৎ ব্যপার ছিলো ঘরের লোকের ছবি গুলো আতশ কাঁচে খুঁজতে হয়। বড় মামাই,ছোট মামাইর ছবি,মাসিমুনির ছবি পেলাম না। 
মামনির সাথে গল্প করছে প্রশান্ত কাকু আর, খেদি মাসী। এই নামটা আমার খুব বিস্ময়কর লাগতো ছোটবেলা থেকে। মা মামণির খুব বন্ধু ছিল। 
৯। মাতৃ বাহিনীর সাথে বরবউ, বিয়ের পর। 
১০। এই খানে মধ্যমনি ঠাকুমা । একা পুরো লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছে একটা আভিজাত্যের লুকে। একদিকে রয়েছে রাঙাদিদা- বাল্য বিধবা এই ঠাকুমার কিছু ভালো গল্প আছে, কোনো একদিন লিখব হয়তো। আরেকদিকে, ডান দিকে(ছবির) আছে জ্যঠি ঠাকুমা- এই ঠাকুমার মতন স্টেডি ও হাসি খুশী ঠাকুমা খুব কম দেখেছি, ৯০ এর ঘরে গিয়েও শেওয়াগ স্টাইলে কথা মজা করতেন। তারপর ভাই দিদা, দিদিভাই।
ছবির বাম দিকে মায়ের সাথে আছে গীতা দিদা, বৌদি, বড় বিরাটির বড় মামি, আর ছোট দিদা।
... এতো ছবি ঘুরে বুঝতেই পারলাম না কখন ৪০ বছর কেটে গেলো। ছবির অনেক অনেক মানুষ সত্যি কবে যেন ছবি হয়ে গেছে- তবে সেদিন নিশ্চয়ই সবাই আনন্দ-আশীর্বাদ দিয়ে গেছেন। 
ও হ্যা, আলিবাবার আনন্দ জগৎ এ হঠাৎ যেন চল্লিশ টা বছর চুরি করে নিলাম  , একটু ঘুরে এলাম সেদিনের আনন্দে।  
৪০ বছর পর আজকের আনন্দ ছবি 

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"