রাজনৈতিক পর্ব-১৫ : বন্ডে এ- "কী" কাণ্ড করেছি, সুখের ঘরের চাবিটাকে সামনে এনেছি।।
##- রাজনৈতিক পর্ব-১৫ : বন্ডে এ- "কী" কাণ্ড করেছি, সুখের ঘরের চাবিটাকে সামনে এনেছি।।
তুমি আসবে বলেই- তুমি আসবে বলেই দেশের প্রথম কোনো কর্মরত মুখ্যমন্ত্রী ঢুকে গেল গারদে।
তারপর, তুমি এলে নীরবে দূরে। যখন দাড়ালে এসে কাছে; যেখানে ব্যঙ্কের দুর্লভ লিঙ্ক মিলেছে। তোমায় ছুতে চাওয়ার মুহূর্ত বিনিদ্র রাত কাটছে আজ তথ্য বিশ্লেষণে। সেই তুমি আসলে "কি"? -"কি" দিয়েছে? কে দিয়েছে?হ্যা -"কি-চাবি" দিয়েছে; সেই চাবি টা দিয়ে আলিবাবা র বন্ধু দের বন্ড সিন্দুক খুলেছে, এইবার এইবার ঠাকুমা গল্প বলবে।
এসবিআই বণ্ড এর বেস্ট ফ্রেন্ডদের "মিলন চাবি" আজ বাধ্য হয়ে তুলে ধরেছে। এখন ব্যপার হচ্ছে এই "কি" বা মিলন চাবি দিয়ে হবে টা কি? এই "কি"- চাবিটা আসলে ইলেক্টরল বন্ডের কোন কাজে লাগবে? - আগের সপ্তাহে চরম সুপ্রিম হুলিয়ার ভয়ে sbi ডান দিকে গ্রাহক আর বাম দিকে প্রাপক এর নাম প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু সেই তথ্য এমন ভাবে দিয়েছিল যাতে মাঝে ঐ নদী বয়ে চলে যায় । এই কূলের সাথে ঐ কূলের অঙ্ক মেলানো বেশ জটিল হয়ে যাচ্ছিল। সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেনি- এই মর্মে সুপ্রিম কোর্ট সোমবার কষে বকা দেয় এসবিআই কে। সুপ্রিম কোর্টের চরম হুশিয়ারিতে গুডিগুডি ছেলের মতো বাদবাকি তথ্য বাধ্য হয়ে এসবিআই আজ নতুন ভাবে প্রকাশ করেছে। এইবার, এই চাবির প্রভাবে কে-কাকে-কত আনা কবে দিয়েছে প্রাইমারি কি সহ রেজাল্ট ভেসে উঠবে সহজে। সেই গ্রাহক-প্রাপক এর প্রাণ ভ্রমরা মিলন কাঠি "প্রাইমারি কি- চাবি"-ই আজ প্রকাশ করল এসবিআই।
আগের দিনের হিসাবে স্রেফ নাম ধাম উঠে এসেছিল গ্রাহক ও প্রাপক এর। এইবার আসল দেনপাওনার হিসেব এসে গেছে। তাই কেজরি এরেস্ট আজকের ব্রেকিং হয়েছে- কালকের থেকে বন্ড উইথ বেস্টফ্রেন্ড ব্রেকিং আসছে এক এক্কে এক দুই দুকুনে চার এর শুভংকরী ধাঁধায় বেঁধে। কেজরিওয়াল গ্রেফতার এর দিনেই বণ্ড এর অখণ্ড ভাব প্রকাশ কি কিউট তাই না! পরীক্ষার রেজাল্ট এর দিন দুষ্টু ছেলেরা এরকম করে - একটু চেষ্টা করে নজর টা যাতে ঘুরে যায়। "বুদ্ধু আমার বাপ গেয়ে"- ঠাকুরমা তার গল্পের ঝুলি খুলে বসে।
রূপকথার গল্পে ঠাকুরমার গলায় ভেসে আসছে-
"কতক্ষণ খোক্কস আসে নাই, লালকমলের ঘুম পাইতেছিল; লালকমল ভুলে বলিয়া ফেলিলেন,-
“লালকমল জাগে, আর-”
মুখের কথা মুখে,-দুয়ার কবাট ভাঙ্গিয়া সকল খোক্কস লালকমলের উপর আসিয়া পড়িল। ঘিয়ের দীপ উল্টিয়া গেল, ঠিক এই সময়ে নীলকমল জাগিয়া দেখেন,-খোক্কস লালকমল কে নিজদের জিম্মায় নিয়েছে! গা মোড়ামুড়ি দিয়া নীল বলিলেন,-
“আরামকাকাঠি জিরামকাঠি, কে জাগিস্ রে?
দ্যাখ তো দুয়ারে মোর ঘুম ভাঙ্গে কে!”" -
হয়ত রাণার আজ নতুন ব্রেকিং নিউজ নিয়ে ছুটে আসছে। বন্ড এবং তার বেস্টফ্রেন্ড এর ব্যান্ড বাজিয়ে কুহেলির স্বরে ডেকে উঠছে- আসছে, সে আসছে: শুনছ কি তার পায়ের আওয়াজ, ঘুমিয়ে থেকোনা- সে আসছে ; চাবির মোচড়ে তালা খুলছে।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ২২/০৩/২০২৪
ছবি- আনন্দবাজার ও বিজনেসস্ট্যান্ডার্ড এর অংশ বিশেষ
##-- রাজনৈতিক পর্ব- ১৪: অবাক শিল্পজ্ঞান, আকাশ ধূমায়মান।
সাংবাদিক - নাঃ- একটু শিল্প না পেলে আর চলছে না। সেই ছোট্ট ছোট্ট পায়ে হেঁটে যুবক বেলায় এসে পৌছেছি এখনো অনেক পথ হাঁটা বাকি। শিল্পের খোঁজে সমাজের ঘিলু শুকিয়ে উঠল। কিন্তু শিল্প চাই কার কাছে ? দশ পনেরো বছর ধরে দরজা এঁটে সব ঘুম দিচ্ছে, ডাকলে সাড়া দেয় না। বেশি চেঁচাতে গেলে হয়তো লোকজন নিয়ে তেড়ে আসবে। পথেও ত লোকজন দেখছিনে।‒ ঐ একজন আসছে! ওকেই জিজ্ঞেস করা যাক।
শহরের পথে এক দল লোক গাড়ির কনভয়ে এগিয়ে আসছে , তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এক জন মহিলা।
সেই নব্য নেত্রী দিদি সামনে আসতেই- প্রশ্ন করতে উদ্যত হোলো সাংবাদিক। কিন্তু না, সবার সামনে সেই দিদি আঙ্গুল তুলে বুঝিয়ে দিলেন এখনো বাজনা বাজেনি - তাই সাংবাদিক এর কিছু বলা বারন। তারপর হঠাৎ ভোটের বাদ্যির বেজে- বাজার নির্দেশিত হোলো- দিদি এইবার হাসি মুখে অভয় দিলেন- "এবার বলো"।
সাংবাদিক ধীরে জিজ্ঞেস করল- একটু শিল্প পাই কোথায় বলতে পারেন, দিদি?
প্রশ্ন শুনেই, রেগে আগুন তেলে বেগুন হয়ে দিদি বললেন- শিল্প পাই- শিল্প পাই করছেন কেনো বলুন তো? চারদিকে আকাশে বাতাসে চেয়ে দেখুন শিল্প ভাসছে।
সাংবাদিক হয়ে বললো - মানে কি বলছেন? শিল্প কি ভাবে আকাশে ভাসবে? বুঝলাম না কিছু।
দিদি এইবার গম্ভীরভাবে বলে উঠল- আহা, আকাশ-বাতাস দেখুন ধোয়ায় ভরে গেছে চারিদিক। শিল্প না হলে এই ধোয়া আসতে পারে? চারদিকে শিল্প ভরে গেছে তাই আকাশ বাতাস ও ধোয়াশায় ঢেকে গেছে। অনেক শিল্প হয়েছে।
পাশের থেকে দিদির অনুগত ভাই রা গেয়ে উঠল- কত রকমের শিল্প ধোয়ার খোঁজ চাই বলুন, সব দিচ্ছি। ঘরে ঘরে আজ রন্ধন শিল্পের ধোয়া- চপ সিঙাড়া শিল্পের ধোয়া, চা এর দোকানের ধোয়া, বুদ্ধিজীবী র বুদ্ধির গোড়ায় আগুন জ্বালানোর বিড়ি-সিগারেট এর ধোয়া। চারদিক কেমন ধুয়া ধুয়া হয়ে গেছে দেখুন, ভালো করে দেখুন।
তাও বলছেন শিল্প নেই।
সাংবাদিক এইবার একটু মিনমিন করে বলে উঠল - না, আসলে আমি একটু অন্যধরনের শিল্প এর কথা বলছিলাম দিদি। আপনারা যা বললেন সেই শিল্প চাইনা।
দিদি এইবার একটু হেঁকে বললেন - এই শিল্প চাইনা তো শিল্প শিল্প করে খামোখা সময় নষ্ট করলেন কেনো বলুন তো। এই চল, চল উর্ধ গগনে ধোয়া উড়িয়ে তোরা প্রচারে এগিয়ে চল। কোথা থেকে এরা এসে জুটছে কে জানে, শিল্প চাই চাই করছে আবার বলছে এই শিল্প চাইনা। এগিয়ে চল তোরা।
গাড়ির কনভয় ও ধোয়া উড়িয়ে চলে গেলো।
সেই সাংবাদিক বুদ্ধির গোড়ায় ধোয়া দিয়ে অনুপ্রেরণায় শিল্পের চাহিদা পূর্ণ করল। সেদিনের অভিজ্ঞতা লিখে রিপোর্টে সেই রচনার নাম করণ করলো - "অবাক ধূম্রপান"।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। ১৯/০৩/২০২৪
##--রাজনৈতিক পর্ব- ১৩: - একি বন্ডে বাঁধলে গো বন্ধু: ইলেক্টরল বণ্ড কি?
ইলেক্টরল বণ্ড, ২০১৮ এর দিকে কেন্দ্র এই নতুন পদ্ধতি নিয়ে আসে। ভোটের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ফান্ড এই বন্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে প্রকাশ পাবে- এই দাবি নিয়ে এই নতুন পদ্ধতি শুরু করে কেন্দ্র। ভোটের জন্য যদি কেউ অর্থ দিতে চায় সে এই বণ্ডের মাধ্যমে দেবে রাজনৈতিক দল কে।
এই ইলেক্টরল বন্ড অনৈতিক এবং অর্থের মাধ্যমে স্বার্থ লেনদেন হচ্ছে এই অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে বাম দল। পুরো ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে এটা অনৈতিক বলছে সুপ্রিম কোর্ট।
কারণ কর্পরেট রা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কে এর মাধ্যমে টাকা দিয়েছে ভোটের জন্য ২০১৮ থেকে। এতদিন এই পদ্ধতিতে কে দিচ্ছে আর কে নিচ্ছে সেটি উহ্য থেকেছে। না, সম্পুর্ণ উহ্য না অবশ্য। যে ব্যাঙ্ক এর মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে সে প্রাপক ও প্রেরক ও কত কি দিয়েছে সে সব জানে। এখন সেই ব্যাঙ্ক টি আবার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক না, একটি ট্রানসাকশানল অপারেশানাল ব্যাঙ্ক, অতিপরিচিত এস বি আই।
কেউ হয়ত একান্ত বাধ্য-অনুগত হয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ এর থেকে কয়েক যোজন বেশী টাকা দিয়েছে এই পরিচয় গোপন বন্ডে এবং বিনিময়ে অনৈতিক উপায়ে প্রতিদান পেয়েছে রাজনৈতিক শাসক দল এর থেকে। এর ফলে, ভাবা হচ্ছে কর্পোরেট প্রচুর সুবিধা পেয়েছে।
এইবার এই বন্ডে কে কে টাকা কোন কোন পার্টি কে দিয়েছে সেটা sbi ব্যাঙ্ক একমাত্র জানত।
ব্যাঙ্ক কে বলা হয়েছিল দ্রুত সেই লিস্ট দেখাও। এতে বোঝা যাবে এত টাকা ভোটে কোথা থেকে এসেছে। কে, কোন কোম্পনি- কোন দল কে কত টাকা দিয়েছে, কিচু সুবিধা বিনিময়ে পেয়েছে কি?
প্রথমে দেখা গেলো এস বি আই সেই লিস্ট দেখাতে ইচ্ছুক নয়। জুন মাস অব্ধি সময় লাগবে জানালো। ততদিনে লোকসভা ভোট অন্তহবে, হয়ত এই ভেবেই এস বি আই সেই সময় চেয়েছিল। এই আবেদন পত্রপাঠ নাকচ করে সুপ্রিম কোর্ট, এস বি আই কে কাগজ দেখাতে বাধ্য করে।
এখন এস বি আই কাগজ দিয়েছে, ইলেকশন কমিশন সেই গ্রাহক ও প্রাপক লিস্ট নিজদের সাইটে আপলোড করেছে। আর তার পরেই যা ভাবা হয়েছিল ঠিক তাই, ঝুলি থেকে বিড়াল বেড়াতে বেরিয়ে পড়েছে।
দেখা গেছে বাম দল ব্যতীত বাকি সব রাজনৈতিক দলই বণ্ডের সুবিধা নিয়েছে-পেয়েছে। বিজেপি বহুযোজন দূরে সবার আগে শীর্ষে, দ্বিতীয় তৃণমূল সহ বাকি দলেরা আছে। বাম রা এই বন্ড থেকে টাকা নেওয়া অনৈতিক বলেছে ও বন্ড থেকে টাকা তোলেনি।
একে একে দেখা যাচ্ছে বন্ড এর প্রতিদানে সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে বিভিন্ন দল - অনেক অনৈতিক কাজ ও তার বিশ্লেষণ আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে- ঘোটালা ও ঘাপলা খুলছে।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ১৬/০৩/২০২৪
ছবি সূত্র: ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত
##-- রাজনৈতিক পর্ব- ১২ । বন্ডে মায়া বাড়াইছে, পীড়িত করেছে।কি জাদু দেখালে দাদু চক্ষু জুড়াইছে।।
এতোদিন দুর্গাপুজোর চাঁদার বিলের পিছনে হিসাবের অংশে দেখতাম ডানপক্ষ সমান বামপক্ষ মিলে গেছে। দেখে মনে হোতো কি সুন্দর সব হিসাব এসে মিলে গেল শেষে দুই পাড়েতে। এতদিন এটাই ছিল মহাবিস্ময়,কি ভাবে এই মিলমিশ সম্ভব। তবে আর না, আর চমকে উঠছি না কোনো মতেই। কেন? এর থেকেও বড় দুই লম্বা লাইনের হিসাব দেখলাম কাল। ক্রনোলজি র স্বপ্ন!
এই ক্রনোলজি বলেছি, ব্যাস সাথে সাথে ভাবলেন ক্যা আর এনার-"সমুদ্র", নিয়ে বলব। আহা না, আমার ভাই অতো মোটাসোটা না। এ হোলো এক অন্য ক্রনোলজির গল্প।
এই গল্পে বন্ড এর আগে ইনিয়ে বিনিয়ে রেইড আসে। ব্যাস আপনা স্বপ্না মানি মানি হয়ে ডিম পাড়ল বন্ডের বন্ধুর বাসায়। অবশ্য এরই এক অন্যরূপ একই অঙ্গে বহুরূপে- দলবদলের এক পালায় বঙ্গবাসী দেখেছে। এজেন্সি-ইডি এলেই আজ যে দলের বন্ধু কাল সে ____। থাক, শূণ্যস্থান টা নিজেরাই পূর্ণ করুন, আপনাদের "শুভ" বুদ্ধির উপর "বিন্দু" মাত্র সংশয় নেই, পারবেন।
আজ থেকে ইলেক্টরল বণ্ড এর তথ্য সাইটে দিয়ে দিয়েছে। এখন তথ্য বিশ্লেষণ দেখে মনে হচ্ছে-
কে নিয়েছে কে দিয়েছে কে বলেছে গাল,
ওপেন তথ্য সেঁকে দিয়েছে ঝামা ঝালঝাল।।
কোম্পানি তে আগে রেইড তারপর বন্ড।
বিরোধি হলে আগে এজেন্সি তারপর বন্ধু।।
আসলে, চুরি-জালিয়াতি হচ্ছে অনুমান করে জানা আর প্রমাণ সহ জানার মধ্যে একটু পার্থক্য আছে! প্রথমটা ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা আর পরেরটা হোলো বাস্তব প্রমাণ; ঘুম ভেঙ্গে জেগে উঠে স্বপনের বাস্তবায়ন চাক্ষুষ করা।
নিন, চলুন - আবার আমরা ঘুমিয়ে পড়ি, কি আর হয়েছে বলুনতো? ও তো হয়েই থাকে। অল ইজ ওয়েল বলে চোখ বুজি। মনে মনে বলি হে মোর কূট -কুটুম্ব সবাই অসৎ । ধুশ!! এইভাবে বললে হবে না , বরং এটা হয়ত প্রকাশ পাবে- সব "শ্যাল"-"হক" চোর।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। ১৫/০৩/২০২৪
##-- রাজনৈতিক পর্ব- ১১ বসন্ত এসে গেছে, কাক-কোকিল ক্যা-কুউউ ডেকে চলেছে।
বসন্তের কাক-কোকিল আর রাজনৈতিক পর্ব দেখে যদি ভাবেন এখন চিত্রাঙ্গদা স্টাইলে গাইব- তুমি অর্জুন, তুমি অর্জুন। পুরনোতে ফিরে এসে বসো পুন: নতুন।। - না ভুল ভাবছেন, ঐটা কাক আর ময়ূর পুচ্ছ নিয়ে লিখতে হবে,সেই পর্ব অন্য কোনো একদিন লিখব, আজকে এক অন্য কাক-কোকিলের কথা।
আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই হঠাৎ শুনতে পেলাম কেউ তারস্বরে ক্যাক্যা ছিছি করছে। টিভি তে চোখ রাখলাম, না তিনি তো নন। এই সাতসকালে "কালী"-মা তো মানুষ এর কথা ভেবে মাটির টালিতে ঘুমোচ্ছেন। এদিকে, কে তাহলে আওয়াজ টা করল? আবার ডাকছে, এবার স্পষ্ট শুনতে পেলাম। বুঝলাম এটা লাইভ কেস, বহিরাগত ব্যপার, শব্দ টা বাইরে থেকে আসছে। ছাদের ঘরে এসে অনুসন্ধিতসু মনে জানালায় উঁকি দিয়ে দেখলাম নারকেল গাছের উপর কাকের ঘর থেকে মা কাক ডাকছে, তার দুই ছানার পানে চেয়ে চেয়ে। চমকে উঠে ভাবলাম- এই পক্ষী কুলও "ক্যা" করতে শিখে গেছে? হমম, ওরা তো অবোধ। হয়ত উড়ে চলে এসেছে বিদেশ থেকে। সন্দেহ হোলো,যাই পরীক্ষা করে দেখি ! জিজ্ঞেস করলাম- এই তুই কোন দেশের, কোন বাড়ির গাছে ছিলি রে?মানে, দেশ যাই হোক এটা আগে বল, যে বাড়িতে ছিলি সেই বাড়িতে সকাল সন্ধ্যে কাসর-ঘণ্টা-শঙ্ক্ষ বাজত? না কি পাঁচবার পয়গম্বর কে স্মরণ করত ? - প্রশ্ন শুনে দেখি বিহঙ্গ মাতা চুপ করে আমাকে দেখছে। তারপর এদিক সেদিক তাকিয়ে আঁচড় কেটে বাসার গহীন কোণ থেকে একটা মোড়ানো কাগজ ছুড়ে দিল। বা:, কি ভালো, কি ভালো। কাগজ ছুড়ে দেখিয়ে দিলো - ওর ঘরেও যে ধন আছে রাজার ঘরেও সেই ধন আছে !কিন্তু একি, ছুড়ে দেওয়া কাগজ টা খুলে হাতে তুলে দেখি ভেতর থেকে উঁকিঝুঁকি দেয় একটা সফেদ শান্তির দূত মিষ্টি বাতাসা- ওহ, আরো কিছু লেখা আছে তো কাগজে। কি লেখা? একটু কষ্ট করে পড়তে গিয়ে দেখি কাকের ঠ্যাং বকের ঠ্যাং হরফে লেখা আছে- "সত্যপীরের জয়"। জ্ঞানী কনফুশিয়স থেকে বেশ কনফিউজড হয়ে গেলাম! এ সত্যনারায়ণ না পীর এর ভক্ত বুঝতে পারছি না। কাক চুরি করে জানতাম। কিন্তু এই চুরির প্রসাদ তো আমাকে ধন্ধে ফেলে দিলো! বুঝতে পারছি না আমার বাড়ির নারকেল গাছে ওর ক্যা করার অধিকার কতটা। এই সব ভাবতে ভাবতে নিজের ঘরে এসে বসেছি- হঠাৎ শুনি চিকন স্বরে "কাককুউউউ"। জানালা দিয়ে বাসার দিকে তাকিয়ে দেখলাম ছানা গুলো মা কাক কে ডাকছে। মা ,কাক হয়ত বুঝে গেছে এ ডাক অচেনা- অজানা অন্য পক্ষী কুলের। অবিশ্বাস এর চোখে দেখছে বাচ্চা দুটো কে। একদম চুপ হয়ে গেছে। ভাবলাম- এইরে, বাচ্চা গুলো কে কি তাহলে বাসা থেকে ফেলে দেবে? না। তা হতে দেওয়া যায় না। যা: যা: হুশ হুশ। হাতের সেই বাতাসা টাই ছুড়ে দিলাম ভয়ে উত্তেজনায়, মা কাকের দিকে।
একি! দেখলাম অতভুত দক্ষতায় সে ছুড়ে দেওয়া বাতাসা পাঞ্জায় লুফে নিল। তারপর পরম আদরে ছানা দুটো কে সত্যপীরের বাতাসা ঠোট দিয়ে ভেঙ্গে ভাগ করে দিলো। ডানা দিয়ে আদর করে দিলো। এতক্ষণ মানুষের মনে যা ক্যা ভেবেছি- কু চিন্তা করেছি সেই একই ডাক এক সত্য "মা" শুনে বুঝেছে বাচ্চা দের ক্ষিধে পেয়েছে, হয়ত বুঝেছে এদের সাথে অপত্য সম্বব্ধও নেই, তবুও পালছে- তবুও ডাকছে..ক্যা-ক্যা। নিজেকে মনে মনে ছি-ছি বলতে উদ্যত হয়েছি, ঠিক তখনই হঠাৎ শুনলাম "কাকুউউ"- এটা যান্ত্রিক ডাক। ঘরের টিভি থেকে আসছে, খবরে কিছু বলছে - কালীঘাট এর কোনো এক কোকিল "কাকুউউউ" র স্বর নাকি দুই মাস ধরে পরীক্ষা করা হয়েছে, এর সাথে মিল আছে সিন্ধু সভ্যতার লিপির, দুটোরই একসাথে পাঠোদ্ধার চলছে, হয়ত সিন্ধুলিপি আগে বোঝা যাবে!
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ। ১৪/০৩/২০২৪
ছবি সূত্র- ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত।
##-- রাজনৈতিক পর্ব: ১০- "তৃতীয় সুর" মধ্যি থেকে বেধে দিল ভোটের সুর
আসলে, প্রশ্ন টা হবার ছিল "কাজের"!
হঠাৎ হাওয়া দিলো, ভেসে এলো তৃতীয় সুর। হেসে বললো "আমায় একটু যায়গা দাও,'কাজের' মধ্যে তে বসি। অনাহূত একজন , চুপচাপ হাসি। কাজের প্রশ্নটা গানের সুরে কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা বলে হুশ করে তিন মাসের জন্য হারিয়ে গেল মনে-মনে।
"কাজের" প্রশ্ন টা পরীক্ষার আগে হয়ে গেল বহিরাগত 'কা"গা"জ' এর।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। ১৩/০৩/২০২৪
##-- রাজনৈতিক পর্ব: ৯- লিঙ্ক এর দেখা নাইরে
আশায় আশায় বসে আছি , ওরে আমার মন, এই বুঝি আসবে সেই ক্ষণ।
পুরো দুটো বেজে গেছে- SBI লিঙ্ক কি এলো? ওহ, এখন তো ভোজন-ভজন টাইম।
ওয়ান মোর টাইম প্লিজ- "কাগজ আমি দেখাব না" !
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ । ১২/০৩/২০২৪
##-- রাজনৈতিক পর্ব: ৮- ভোটরঙ্গে বঙ্গ প্রার্থী
বঙ্গ ভোট দামামা ধীরে ধীরে বেজে উঠছে। দলবল এক দুই করে নাম বলে যাচ্ছে। এখন কারোর লিস্ট হয়ত অর্ধ ,কেউ এখনো শূণ্য আবার কেউ করেছে লিস্ট সম্পূর্ণ। তা, এই আবহে বেশ কিছু উপমা মনে আসছে- দেখতো চিনতে পারছ কিনা?
১।"পদ্মর" ঢেউ রে —
প্রথমে দল ঘোষণা করেছে পদ্ম, তবে সেই ফুল পুরোটা লিস্ট হয়ে ফোটেনি। কিছুটা ফুটছে, উঁকি দিয়ে দেখছে- কে কি বলছে,ভাবছে। এদিকে যাদের ভাগ্যে এখনো টিকিট এর উদয় হয়নি তারা নীরবে গাইছে -"যদি দেখিস্ তারে, দিস্ এই পদ্ম তার পায় বলিস্, কেন বুকে আশার দেয়ালি জ্বালিয়ে"..ও পদ্মর ঢেউ রে। ওদিকে আবার হাওয়া উঠল: পবন, উড়তি হাওয়া কা ঝোকা।বানিয়ে দিলো বোকাসোকা।।
২।ফুলে ফুলে তৃণ দলে ঘাস দোলে-
হ্যা,তৃণ দল কিন্তু একদম সালমন খানের মতন যোগ চিহ্নের উপর হেটে সম্পূর্ণ লিস্ট প্রকাশ করেছে।র্যম্পে হেটে পাম্প দিয়েছে অনেকের প্রত্যাশায়। এই যেমন অনুপ্রেরণায় উদ্বেলিত , "দারুন" চিত্র কলায় মোহিত দিদি হয়ত ভোটের প্রচারে বলে উঠবে- "এবার বলো", কেউ আবার চৌকাঠ মাড়িয়ে বাইরে বেরিয়ে সত্যি এবার গাইবে "বন্ধু এবার খেলা হবে"। এদিকে আশাহত কেউ হয়ত ছদ্মবেশী সুরে "ভাট"-ইয়ালি গাইবে: আমি কোন পথে যে চলি, কোন কথা যে বলি...এখন আমি লেংচে চলি।
৩। সে কি এলো, এলো কি এলো বোঝা গেল কি গেল না, সে কি মায়া না ছলনা-
আহা বাইনারির বাইরেও আরো দুই দল আছে রে বাবা। ওরাও করছে-লড়ছে , শুধু জিতছে না। তাদের এ যাবৎ কালের লিস্ট তৈরির নিয়ম ছিল "আশি তে আসিও", স্লোগান ছিল- "পক্ককেশ ভোটের ময়দানে লাগছে বেশ"। তা এই মোডে ফলের আশায় ভেসে ঐতিহাসিক ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছে। একদম নতুন দল নিয়ে আসছে। ও হ্যা, আসছে, এখনো আসছে- বিপ্লব আসছে , (চ্যাটার্জি না)। বাকি রা যেখানে নাম-ধাম প্রকাশ করে, হারেরে করে লিস্ট দেখে কাদছে-হাসছে; সেখানে এই দল এখনো সবুরে মেওয়া ফলাচ্ছে। গান গাইছে টাইটানিক সফরে - "এভ্রি নাইট ইন মাই ড্রিম আই সি ইউ, আই ফিল ইউ"।ভাবছে পিছুটান হীন আদর্শের ব্যাগ পিঠে একঝাক ইচ্ছে ডানায় ভেসে উত্তেজিত জ্যাক হয়ত শেষ মুহূর্তে দৌড়ে আসবে। এসে বিশাল ডুবন্ত জাহাজ টায় উঠবে, হয়ত শেষ অব্ধি ডুবেও যাবে! তবুও রোজ ডোবার আগে "রোজ" কে বাঁচাবার আপ্রাণ চেষ্টা করবে। একটাই লাইফবোট একটাই প্রাণ ,হে জওয়ান হও আগুয়ান, বাচাও এ প্রাণ । --- ডাকিছে ভবিষ্যত।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। ১০/০৩/২০২৪
##-- রাজনৈতিক পর্ব: ৭-
হুমম, যদি কাগজে লিখো না- সে কাগজ কোথায় যাবে?
দয়াল বিচারকের বিচারে প্রভাবশালী বর্তমান বিরুদ্ধস্বর ক্লিনচিট পেয়েছেন। উনি তো কাগজ মুড়ে কিছু নিয়েছেন, কি নিয়েছেন তা শুধু সার্বিক গ্রহীতা জানেন। বাকি কেউ কিচ্ছু দেখেননি,কেউ কিছু জানেনা। এই দেখে আনন্দিত বিরোধী গদগদ স্বরে গেয়ে উঠলেন- কাগজ আমি দেখাবো না!
কালান্তরে দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্ক সুপ্রিম বিচারক এর কাছে আবেদন নিবেদন শুরু করেছে। কেনো? ওমা, এতো খেটে খুটে যত ফান্ড বণ্ডে এসেছে সেই রাজনৈতিক অর্থসূত্র আজ মিসিং লিঙ্ক! লিঙ্ক নিয়ে এদের সমস্যা চিরকালীন, লিঙ্ক নেই বলে দিলেই সাত খুন মাফ। তা, যাই হোক বণ্ডের রাজনৈতিক বন্দনার কাগজ প্রথম থেকেই অগোছালো- তাই ব্যাঙ্ক ও বলে দিলো -সময়ের মধ্যে কাগজ আমি দেখাব না!
এইভাবেই কত্ত কাগজ না দেখিয়ে দেশ চলছে বলুন তো। যুগে যুগে যে যায় দিল্লী তে সেই হয় রাবণহন্তা রাম! তবুও নেতাজীর হারিয়ে যাওয়া ফাইল গুলো নিভৃতে শুনতে পায় "কাগজ আমি দেখাব না"।
ওহ, না-না আমি-আপনি-আমরা-আম জনগণ কিন্তু ছোট নিয়মেই আটকে-লটকে আছি। "ছোট ছোট মানুষের ছোট ছোট আশা কে রাখে খবর তার, তুমি দেখেছো কি?" তবুও পানের থেকে চূন খসলেই মোবাইল "বার্তা" এসে পাকড়ে ধরে, "কাজীর" কাছে হয় বিচার একুশ টাকা দণ্ড তার। আমাদের কাগজ দেখাতে হয়, কে ওয়াই সি আপডেট করতে হয়। কাগজ সযত্নে গুছিয়ে রাখার জন্য ফাইল-বটুয়া-ব্যাগ-লকার-ক্লৌডে আপলোড করতে হয়-একটু সময়ও দিতে হয়।
ওদিকে, দেশের এই বুড়ো খোকারা যেদিন ভারত ভেঙ্গে ভাগ করেছিল সেই গোপন ফাইল দেখতে পাইনা। দেশ ভাগের ক্ষত বুকে চেপে নিজের পরিচয় কাগজ আমাদের দেখাতে হয়! কি সুন্দর মিষ্টি ছোট্ট একটা দাবি, তাই না?
চলুন সব কাগজ আমরা গুছিয়ে রাখি, চাইলেই দেখিয়ে দেবো, না দেখালে? জুজু এসে কামড়ে দেবে: ভয় হয়!ঐ যে তেলের শিশি ভাংল বলে খুকুর উপর রাগ করো।
তোমরা যে সব বুড়ো খোকারা- কাগজ কেউ দেখাবে না, কি বলছ- তার বেলা?
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ ।। ৬/৩/২০২৪
##-- রাজনৈতিক পর্ব: ৬- ও "দল", বিচার করো।
বিচারক অবসর নিয়ে কোথাও যাবেন কি যাবেন না সেটা পরের ব্যপার। কিন্তু তাই নিয়ে কিছু ভাবনা, কিছু চিন্তা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে জনমানসে। বাংলার চার দলের কর্মী রা হয়ত ভাবছে-গাইছে এই ভাবে বিচারকের সিদ্ধান্ত বিচার করছে - (না ও ভাবতে পারেন- ভাবা না ভাবা ব্যক্তিগত ব্যপার। তবে "ভাবা" প্র্যকটিস করা দরকার)
পদ্মদল- কর্মী রা বেশ উজ্জীবিত। হঠাৎ প্রাণ খুলে মন ভরে গাইছে - তুমি আসবে বলেই...তুমি আসবে বলেই সোনালি স্বপ্ন ভিড় করে আসে চোখে।তুমি আসবে বলেইআগামী বলছে দেখতে আসব তোকে।।তুমি আসবে বলেই..উৎসাহী কর্মীরা বিহ্বল হয়ে গলা মিলিয়েছে আবেগে উত্তেজনায়। গানের বেগে নিয়ম মেনে উচ্চারিত হোলো এই লাইন টাও- তুমি আসবে বলেই দেশটা এখনও গুজরাট হয়ে যায়নি - তুমি আসবে বলেই..হঠাত কেউ বললো থামো সবাই। কিছু একটা শব্দ কানে "গুজে" ঠূসে দেওয়ায় কেউ তীব্রস্বরে বলে দিলো এই অংশটুকু সিলেবাসে নেই- এটা বাদ, এইটুকু গাওয়া যাবে না। সবাই আবার গাইতে থাকল- তুমি আসবে বলেই..
সবুজ ঘাসের দল আবার নিজেদের দূরদৃষ্টির সাফল্যে বেশ উত্তেজিত। সুন্দর মাথা দুলিয়ে বলে চলেছে- তৃতীয় সুর ষষ্ঠ সুর। জানতাম যাবেন বহুদূর।।
লাল জামা পরে রাস্তার বাম দিকে নিয়ম মেনে হেঁটে যাওয়া কচি মন গুলো একটু হতাশ। কানে শুনে হয়েছে মনে, পদ্মবনে নিশ্চয়ই কুছ কুছ হোতা হ্যায়। মুখে তাই বলছে - তুসি যা রাহে হো, তুসি না যাও। মনে হয়ত ভাবছে- "তোমার কর্ম তুমি করো, লোকে বলে বলুক না যা"।
একটু বৃদ্ধ দল হাতের পাঞ্জা দেখিয়ে বলছে ব্যাপারটা অন্যরকম ভাবে দেখছি। পাকিস্তানে খেলা আক্রম-ওয়াকার-শোয়েব-ইঞ্জি-সাকলিন কিন্তু বেশ ভালোলাগার প্লেয়ার, শুধু ঐ যে। যে দেশের হয়ে খেলে সেই দেশটাই ঠিক পোষায় না আমাদের। আমাদের আবার দেশ নিয়ে দ্বেষ টাও ঠিক আসেনা।
কিছু দুরে রাস্তায় "বনোবাসে" প্ল্যাকার্ড হাতে ন্যায্য বুঝেনিতে ,ঝিমুতে থাকা কিছু মাঝবয়সী দেওয়ালে লেখে- বিদ্যত্ঞ্চ নৃপতঞ্চ নৈব তুল্য কদাচন । স্বদেশে পূজ্যতে রাজা, বিদ্বান সর্বত্র পূজ্যতে।। - একটু অন্য ভাবে মনের দৃষ্টিকোণে ফুটে ওঠে: "পেটে বিদ্যে থাকলে রাজাও কাছে টেনে নেবে।"
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। ৩/৩/২০২৩
##-- রাজনৈতিক পর্ব : ৫ - শান্তিপর্বে শান্তি দিয়েছে ...
দেবের পদত্যাগও দেখেছি, গম্ভীরের পদত্যাগও দেখলাম।
শুধু শান্তি দিয়েছে কুনাল এর পদত্যাগ।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। ২/৩/২০২৩
##-- রাজনৈতিক (এ শুধু খেলা নয় খেলা নয় সংগ্রাম)
পর্ব : ৪ - শুভ জন্মদিন শুভ্রস্বচ্ছ জন-গণ-মন অধিনায়ক।।
সঙ্গে সেই স্মৃতিভার।
হারিয়ে যাওয়া বঙ্গ কেরিয়ার।।
মানুষটা সেদিন হেরে গেলো, অনেক স্বপ্ন ভেঙ্গেচুরে ফিরে গেলো আঁধারে। সম্ভাবনাময় উদ্যম দৌড় মিলখা বেগে শুরু করে মাঝপথে ব্যর্থ হোলো। শুভ্র খরগোশ উন্নয়ন এর ভারী ব্যাটন তুলে দিলো মুখোশ-খোলস ধারী কাছিম এর হাতে ! সেই থেকে বঙ্গ কেরিয়ার গুটিগুটি পায়ে গুটিয়ে গেছে। ভবিষ্যতে সেই ব্যাটন তুলে কেউ হয়ত গুতিয়ে দিতে প্র্স্তুতও হচ্ছে।
না, আজ আর কেরিয়ার কে ক্যারি করার কথা কেউ বলে না। অফিং খাওয়া সমাজের দিকে তাকিয়ে মাথা নীচু করে দূরদৃষ্টিতে শান দিয়ে লাফিং বুদ্ধ আরেকবার বলে উঠল- সেই আমরা-তোমরা কিন্তু বিদ্যমান। একদিন আমরা হেরেছিলাম। আজ সেই "হার" তোমরা প্র্তিদিন হারছো! আমরা-তোমরা আজ সবাই মৌচাক ভঙ্গ শ্রমিক ভ্রমরা। দুর্নীতির হুল নিয়ে হুলুস্থুলু করলেও শোনার কেউ নেই- বরং হুলিগন হলাহলে ছোট বাচ্চারা দুষ্টুমি করে মিষ্টি-সন্দেশ-বালি খালি করে দেয়।ওদিকে মাস্টার মশাই কুমীর ছানার অশ্রুতে সুর তুলে বলে আমিতো কিছু দেখিনি!! জন্মদিনে রবি প্রেমী রাজনৈতিক কবির মন হয়ত গেয়ে ওঠে-
"এ"-"মনি" হার আমায় নাহি সাজে--
এরে পরতে গেলে লাগে, এরে ছিঁড়তে গেলে বাজে॥কণ্ঠ যে রোধ করে, সুর তো নাহি সরে--
ওই দিকে যে মন পড়ে রয়, মন লাগে না কাজে ॥
শুভ জন্মদিন বুদ্ধদেবভট্টাচার্য ।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। ০১ /০৩/২০২৪
##-- রাজনৈতিক (এ শুধু খেলা নয় খেলা নয় সংগ্রাম)
পর্ব : ৩ - ব্যুত্পত্তি দাও মা, সরস্বতী পুজো
জিহ্বাগ্রে সরস্বতী বিবেক বিসর্জন।
আড়ষ্ট বুদ্ধিভ্রষ্ট বুদ্ধি"জিহ্বি" নিদ্রিত কুম্ভকর্ণ।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। ১৪/০২/২০২৪
##-- রাজনৈতিক (এ শুধু খেলা নয় খেলা নয় সংগ্রাম)
পর্ব : ২ - সন্দেশখালি:
খুব ভুল না হলে দ্বিতীয় নন্দিগ্রাম হতে চলেছে, হয়ত।টিভিতে সম্প্রচারিত তথ্য অনুসারে বাম আমলের শেষ দিকে যে ভাবে প্রতিরোধ হচ্ছিল ঠিক সেই প্যাটার্ন চলছে। শেষ তিনচারদিন তীব্র জনরোষ - শাসক দলের আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে শাসক দলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ দের সম্পত্তি ঘিরে অগ্নি সংযোগ হয়ত পনেরো-ষোলো বছর আগের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সন্ধ্যের টিভি টা জানান দিলো কি ভয়ংকর অত্যাচার হয়েছে মহিলাদের উপরে।
সাম দাম দণ্ড ভেদ ততক্ষণ চলে যতক্ষণ বিদ্রোহ আগুনে আঁচ থেকে দূরে থাকে। পরশু মনে হচ্ছিল লক্ষ্মীশ্রী হয়ত "দাম" এর মাধ্যমে জিতে গেল, এই বার ভোট বৈতরণী পার করে ফেলল। কিন্তু আজকে এই বিরোধ দেখে মনে হচ্ছে হয়ত কালকের ভাবনা ভুল ছিল। এই বিদ্রোহ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে, প্রসারিত হচ্ছে আর এটা কিন্তু শাসক এর জন্য কাঁটা হবে, হয়ত।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। ১০/০২/২০২৪
##-- রাজনৈতিক (এ শুধু খেলা নয় খেলা নয় সংগ্রাম)
পর্ব : ১ - ভুল করেছি, জানি আমি, কেউ বুঝবে না কতখানি। তোদের গায়ে আঁচড় লাগার ভয় টা ভীষণ পাই .....
আজকে মীনাক্ষী র ভাষণে একটা বিষয় ভালো লাগল। রাজনৈতিক লড়াই বা বক্তব্য না, মীনাক্ষী কাজী নজরুলের কবিতা পাঠের সময়ে কিছুটা পাঠ করে দেখলাম আটকে গেল। প্রথমে মনে করার চেষ্টা করল, তারপর বলল কি করব মনে আসছে না ভুলে গেছি। কিছু পরে জনতার থেকে লাইন টা আউড়ে দিল, কবিতা টা শেষ করল।
লড়াই রাজনীতি গত বিভেদ- যুক্তি পাল্টা যুক্তি এই বিষয় গুলো থাকবে;
কিন্তু কিছু বলতে উঠে ভুলে গেলে উল্ট-পাল্টা বলার থেকে স্বীকার করা ভালো ভুল হয়েছে। ভুল স্বীকারে বিপরীতে থাকা মানুষও সেই ভুল শুধরে দিয়ে হাত বাড়ায়, বিশ্বাসের আস্থা জন্মায়।
যাই হোক ভুল স্বীকার করার মধ্যেও অনেক কিছু প্রকাশ পায়। মানুষ মাত্রেই ভুল করে , মানুষ ই শিখে আবার সেই ভুল ঠিক করে ।
অনেক দিন কাউকে দেখিনা ভুল স্বীকার করতে .... সেই পক্ক কেশ মানুষটাও বলেছিল ভুল হয়েছিল আমাদের। আমরাই ভুল বুঝেছিলাম সেইদিন!
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। ৭/০১/২০২৪
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন