পল্, দলছুটের পল্।আজ আবার ফিরেযাই চল।।
হা মেরে সাথ চল...(প্রথম পর্ব )
গাড়ি টা এসে সিসিডির পাশে সঙ্কোচে ব্রেক কষলো। দোকানের সামনে অপেক্ষারত এক বিরক্ত মুখের উপর ক্ষমাপ্রার্থনা আছড়ে পড়ল থমকে যাওয়া গাড়ির ভিতর থেকে- সরি ভাই, অনেক দেরি হয়ে গেলো। তোকে অনেকক্ষণ ওয়েট করালাম।চল উঠে পড় জলদি, পিকনিকে পৌছতে দেরি হয়ে যাবে। এই কথা শুনে অভি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল- আরে না দু:খ পাওয়ার কিছু নেই অর্ঘ, মাত্র তিরিশ মিনিট ওয়েট করিয়েছিস আজ। কালকে ফোনের পরে ভেবে দেখলাম স্কুলছুট এর পরবর্তীতে ঐ কুড়ি বছরের অপেক্ষার অবসান হবে আজ। প্রায় কুড়ি বছর পরে তোকে দেখছি।একাকী তিরিশ মিনিটের অপেক্ষার প্রতিক্ষণ-প্রতিপল ছিল কুড়ি বছরের অপেক্ষা অবসানের উত্তেজনায় নিমগ্ন , কুড়ি বছরের অপেক্ষা হয়তো আরেকটু বাড়লো, আধঘণ্টা ই তো, ঠিক আছে চল। সরে বোস আর শীঘ্র গাড়িটা চালা এবার, দৌড় দেই পিকনিকে বাকি বন্ধুদের দলে, একসাথে পুরনো বন্ধুদের খোঁজে।।
হাম রহে না রহে ইয়াদ রহে কাল.... (মধ্যম পর্ব )
অভি কেমন আছিস? এতো দিন পরে দেখা, জানিও না কোথায় আছিস, কি করছিস? কালকে বিকেলে যখন ফোন করে জানালি যে আমার সাথে একই রুটে পিকনিকে যাবি; প্রথমে সত্যি আমি বুঝতেও পড়ছিলাম না কোন অভি তুই? হয়ত সেটা বুঝতে পেরেই নিজের ডাকনাম টা জানালি- চকিৎ এ কুড়ি বছর আগের একটা স্কুলমুখ ভেসে উঠল, তোকে স্মৃতিতে চিনে নিলাম। তা, বল বাড়িতে সব কেমন আছে? কাকু কাকিমার কি খবর?
অভি হেসে উঠে বলল- ওরে বাপরে, এতো প্রশ্ন ! দাড়া ভাই। অবশ্য এতো যুগ পরে দেখা হচ্ছে কৌতূহল স্বাভাবিক। তা আছি ভালোই, এখন কলকাতায় বদলি হয়ে ফিরে এসেছি। আগে হায়দরাবাদ ছিলাম কর্মসূত্রে। আর একটা খবর হয়ত তোর কাছে পৌছায় নি; বাবা-মা কেউই এখন আর নেই। অনেক দিন মানে- অনেক বছর হোলো। সেই ২০১৪ তে, আমি হায়দরাবাদ চলে যাবার ঠিক পরের দিন মা চলে গেলো। অভি উদাস হয়ে শেষ কথা গুলো বলার পর উল্টোদিক থেকে শুনতে পেলো অর্ঘ এর বিস্মিত স্বর- কি বলছিস অভি! দশ বছর আগে কাকিমা চলে গেছেন? এই দেখ কিছুমাস আগেই বাড়িতে মা র সাথে স্কুলের কথা হচ্ছিলো। পুরনো বন্ধু-অভিভাবক দের স্মৃতিরোমন্থন কালে তোর কথা - কাকিমার কথা ভেসে উঠেছিল, আর আজকে শুনতে জানতে পারলাম এই নিদারুণ সত্যি, খারাপ লাগছে শুনে। কয়েকদিন আগেই এরকমই আরো একটা হৃদয় বিদারক খবর পেলাম। শুনলাম, সূর্য-র মা কাকিমা একমাস হোলো নেই।
একটা চাপা দীর্ঘশ্বাসের আন্তরিক শব্দে অভি অনুধাবন করল ওর হারিয়ে যাওয়া মা দীর্ঘদশ বছর ধরে কারোর কাছে জীবিত ছিলো, আবার ওর চেনা হারিয়ে যাওয়া কাকিমা এক মাস ধরে বর্তমানেই ছিল- নিখোঁজ বন্ধুত্বে হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক গুলো অন্তিম শ্বাস নিয়েছে স্মৃতির ঝুলিতে।।
পল্, ইয়ে হ্যায় প্যার কা পল্.... (চলমান পর্ব)
অর্ঘ-অভি বন্ধুত্বের স্মৃতিতে ভেসে পিকনিকে ঢুকল।আবার বছর পরে স্কুলফ্রেন্ড দের সাথে স্কুললাইফে হারিয়ে যাওয়ার আব্দারে সাড়া দিলো মন। একে একে বন্ধুদের সাথে হাসি-আড্ডা-খুনসুটি-ঝগড়া পর্ব শুরু হোলো। সবাই মিলে মিশে হারিয়ে গেলো স্কুল লাইফের দিনে- সাথে প্রচুর খাওয়া আর উন্মুক্ত হাওয়া। আজ নিজের বন্ধুরাই কেউ নিজ রেস্তরাঁর নতুন উদ্যোগে এই মহাসমারোহের আয়োজন করেছে, আবার কেউ ব্যবস্থা করেছে নব প্রয়াসে এই পিকনিক গার্ডেন এর। স্টার্টআপ এর মিশেলে পুরনো বন্ধুদের জন্য মিশিয়ে দিয়েছে আন্তরিকতার মেইন কোর্স। কেউ আনন্দে পুকুর থেকে মাছ ধরছে তো কেউ সকাল থেকে কাবাব সেঁকছে একাগ্র চিত্তে। আর কি হচ্ছে?হ্যা অফুরান এক নির্ভেজাল আড্ডা আর আনন্দ-
খালি গলায় উন্মুক্ত গান.. কোনো এক বন্ধু গাইতে শুরু করলো....
চল, সোচে কেয়া ছোটি সি হ্যায় জিন্দেগি।
বেসুরের দলছুট সুর মিলিয়ে গেয়ে উঠল-
কাল মিল যায়ে তো হোগি খুশনসিবি...
পল্, ইয়ে হ্যায় প্যার কা পল্....
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।।
পূর্ববর্তী দুই বছরের লিঙ্ক -
প্রথম বছর:
https://avrasoura.blogspot.com/2022/06/blog-post_26.html?m=1
দ্বিতীয় বছর:
https://avrasoura.blogspot.com/2023/02/blog-post_19.html?m=1
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন