অলিন্দের আলোয় ৮ই ডিসেম্বর
আজকে বৃষ্টিস্নাত আকাশভারের আবহে দিনটা অতিক্রান্ত হোলো কালচে আঁধারের দরজায় কড়া নেড়ে। নিন্মচাপের অকাল বর্ষণে ফসলভাসি কৃষক এর বুকফেটে ছিটকে বেরিয়ে আসা আর্তনাদের ধোঁয়াশার চাদরে মুড়ে সেই বিশেষ দিনটাতে প্রবেশ করছি সবাই; কালের নিয়মে ক্যালেন্ডারে আগামীকাল ৮ ই ডিসেম্বর!
আচ্ছা,কি হয়েছিল বলুন তো ৮ই ডিসেম্বর ? হয়ত অনেক অনেক কিছুই হয়েছে বছর বছর ধরে। তবুও তার মধ্যে একটি ঘটনা ধ্রুবতারার মতন উজ্জ্বলরূপে সসস্মানে বিরাজমান।
তাহলে চলুন, সময়ের সরণি ধরে একটু-আধটু করে প্রায় ৯৩ বছর পিছিয়ে যাই। আস্তে আস্তে পিছনের টাইম ট্রাভেলে তাকিয়ে দেখি কি এমন ঘটনা- ১৯৩০ এর অন্তিম মাসে দেশ সাক্ষী হয়েছিল সেই অভূতপূর্ব ঘটনার- অগ্নিযুগের ফাইনাল! অনুভবে-গৌরবে-শৌর্যে উদ্ভাসিত বিপ্লবের সেই পর্যায়ের অন্তিম মহাযুদ্ধ! যদিও ১৯৩০ সালটাই ইংরেজদের জন্য সম্পূর্ণ রূপে বেসামাল ছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ভাবতেও পারেনি ঐ বছর এমন দুটি ঘটনা ঘটবে যা তাদের অস্তিত্ব কেই বিশাল প্রশ্ন চিহ্ন এর সন্মুখে দাড় করিয়ে দেবে! প্রথম টি ছিল- ১৮ই এপ্রিল ১৯৩০, মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখল- বৃটিশ দের বিরূদ্ধে জালালাবাদের যুদ্ধ - চট্টগ্রাম তিন দিনের জন্য ব্রিটিশ শাসন উত্পাটিত-মুক্ত!
এই আচম্বিত ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই এল সেই বছরের দ্বিতীয় এবং সব থেকে ভয়ংকর আক্রমণ - বৃটিশ সম্মান অবলুণ্ঠন! সরাসরি আত্মসম্মানের কেন্দ্রে সংঘটিত হোলো পরিকল্পিত আক্রমণ! চাণক্য নীতি অনুসারে বাইরের পুঞ্জিভূত আক্রমণ কেন্দ্রীভূত হয়ে আছড়ে পড়ল বৃটিশ শাসনের-আভিজত্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র রাইটার্স বিল্ডিং এর সিংহাসনে!
১৯৩০ এর ৮ই ডিসেম্বর: বিনয়-বাদল-দীনেশ এর রিভলভার এর কালকেউটের ছোবলে আতঙ্কে দিশেহারা ব্রিটিশ প্রশাসন! সেদিন অত্যাচারী সিম্পসন এর ভবলীলা সাঙ্গ হবার মাধ্যমে ইংরেজ দের বুঝিয়ে দেওয়া হোলো এদেশে বৃটিশ দের জন্য কোনো স্থানই আর নিরাপদ নয়। ওদের সব থেকে সুরক্ষিত দুর্গে ঢুকে ওদের মারা হয়েছে!
কিছু সময় পরে যদিও লালবাজার থেকে টেগার্ট এর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে উপস্থিত হয় রাইটার্স বিল্ডিং এ। তাদের সাথে অকুতোভয় লড়াই লড়েছিল আমাদের সংশপ্তক ত্রয়ী- সেদিন বীর সন্তানের রক্তে রাইটার্স এর অলিন্দ ভেসে যায়। সেই রক্তধারায় ইতিহাসের অলিন্দে স্থান পায়- ৮ ই ডিসেম্বরের "অলিন্দ যুদ্ধ"।
আর হ্যা, ইংরেজদের উদ্দেশ্যে "ইয়ে ডর মুঝে আচ্ছা লাগা" - অনুভূতিটা সেদিনের পর বিপ্লবীরাও আস্বাদন করেছিল : চোখে চোখ রেখে বুঝিয়েছিল বৃটিশ সরকারের কেন্দ্রে যেকোনো মুহূর্তে আক্রমণ সম্ভব- সাবধান! অত্যাচারী শাসক।
🔥❤🇮🇳🙏🏼🇮🇳🙏🏼🇮🇳🙏🏼🇮🇳❤🔥
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন