"বেদনার শতদলে ২০০৩ এর স্মৃতি জ্বলে।স্ফুলিঙ্গ জ্বলুক মাঠে প্রতীক্ষার কালে "
আজকের জন্য কোন কথাটি বেশী প্রযোজ্য?
"ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়" - নাকি শাপমোচন এর সেই গানটি: "বসে আছি পথ চেয়ে ফাগুনের গান গেয়ে" ?
আসলে ২০০৩ এর ২৩শে মার্চ এর সেই রাতের কথা মনে পড়লেই "পাওয়া না পাওয়ার মাঝে,
অচেনারও সুর বাজে সুরভিত বিরহের মর্ম ব্যথা।" সত্যি তো সেই দিন রাতে আমাদের কাছে বিশ্বকাপ এর স্বপ্ন টা ছিল: "মিল কে ভি হাম না মিলে"।
শুধু একটিবার সময়ের স্মৃতিতে হেঁটে গেলেই এক অন্য ছবি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে!
সেদিন, চারদিকে কি উত্তুঙ্গ উন্মাদনাই না ছিল, খেলা শুরু হবার আগে! রাস্তা জুড়ে জাতীয় পতাকার আন্দোলন; এর মধ্যে পাড়ায় কোনো একটা পুকুর ও ভরাট হয়ে গেল- না-না, মাটি দিয়ে না! সেদিন সব জাতীয় পতাকায় ঢেকে দেওয়া হোলো পুকুর-বাড়ি-রাস্তা। এদিকে ব্যালকনি থেকে ঝুকে উঁকি দিল মহানায়ক রা! ল্যামিনেটেড ডিজিটাল প্রিন্ট আর কোথায় সেই প্রাক মোবাইল যুগে, অধিকাংশই খবরের কাগজ কাটিং থেকে আদরের স্পর্শে ঘরের নিজস্ব পুরোহিতের স্পর্শে জেগে ওঠা ঈশ্বর দের প্রতিচ্ছবি। শচীন-সৌরভ-রাহুল-ভাজ্জি-শ্রীনাথ-জাহির-নেহেরা-কুম্বলে রা দেশের সব মানুষের মনে জায়গা করে নিলো। সবাই এক বাক্যে মেনে নিলো : "ক্রিকেট ইস আওয়ার রিলিজিয়ন। শচীন ইস আওয়ার গড"।। তিন-চারটে পাড়া মিলে এক হয়ে একটা বিশাল স্ক্রিনের ব্যবস্থা হোলো, খাওয়া দাওয়া সহ যেন বসন্ত কালে বর্ষপূর্তি রাতের পিকনিকের হাতছানি! আরো কত্ত কি!
আর আজকে দেখুন, আজও আমরা কুড়ি বছর পরে একই প্রতিদ্বনদ্বীর সামনেই দাড়িয়ে আছি। সেদিনের সেই উন্মাদনা আজ সংযত, নিয়ন্ত্রিত। তাই হয়ত সেই ২০০৩ এর পুকুর টা ফ্ল্যগে সেজেই ওঠেনি, ওহ কি বললেন- হ্যা পুকুরতো ভরাট হয়ে আজকে হাই রাইজিং হয়ে উঁকি দিচ্ছে আকাশে! প্রতিদ্বনদ্বী হবে সেই তাল গাছটাও তো কাটা পড়েছে। যাই হোক,সবাই সময়ের ইঁদুর দৌড়ে ব্যস্ত, হয়ত ! অথবা সুনামির আগের নির্জনতায় প্রহর গুণছে আনন্দ বিস্ফোরণ এর! - অপেক্ষমান শুধু আনুকূল্য ফলাফলের শেষ প্রহরের। হলুদ জার্সি কে শেষ ল্যাপে হারিয়ে একবার কাপ টা হাতে এলেই বিশ বছরের বিষ নামবে ২০০৩ এর দর্শককূলের , দেশের। আনন্দে ফেটে পড়বে , পুকুর বুজিয়ে দাড়িয়ে থাকা ফ্ল্যাট এর মাথায় উড়বে পতাকা!আর পুকুরটাও না হয় চোখের আনন্দেই তৈরী করা হবে!
এদিকে মন আবার বলছে, প্রবল অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেট, হয়ত দৈবের বশে জীবতারা খসতেও পারে , কি আর হবে আবার হয়ত প্রতীক্ষার শুরু হবে! হলুদ জার্সি কে হারিয়ে কাপ জয়ের।
তবে জানেন তো এই দেশ চন্দ্রযানের প্রথম অভিযান এর হৃদয় বিদারক ঘটনার পরেও আস্থা রেখেছিল দ্বিতীয়বারেই পারবে, না হলে পরের বারে, কিন্তু পরবে ঠিকই;
আচ্ছা বলছি- চাঁদের অন্ধকারতম অদৃশ্যপূর্ব দক্ষিণ প্রান্ত তো দ্বিতীয়বারেই জ্য় করেছি! অস্ট্রেলিয়া তো পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধেই আছে,দেখতেও পাচ্ছি , চলুন ওদেরকে হারিয়ে বিশ্ববিজয়ী লয়েড এর ওয়েস্টইন্ডিজ কিংবা স্টিভ-পনটিং এর অস্ট্রেলিয়ার মতন সদর্পে রোহিতের ভারত এর আগমন বার্তা ঘোষণা করি বিশ্বক্রিকেটের মঞ্চে!
দুটো বিশ্বকাপ তো আছে আমাদের নাকি, ওদের না হয় পাঁচটা। এই যে চিন্তাটা কাজ করছে অস্ট্রেলিয়া নকআউটে সব থেকে কঠিন দল- সেটা দূর করতে হলে ওদেরকে হারাতেই হবে সন্মুখ সমরে,
আমাদের টিম টা নিয়েও তাহলে পরের বার বিশ্বকাপে কোনো অস্ট্রেলিয় দর্শক আতঙ্কে বলবে "না, প্লিজ ইন্ডিয়া না, ওদের সাথে যেন নকআউটে যুঝতে না হয়"....
ছবি সূত্র: ইন্টারনেট।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন