"শেষ জয়ে যেন হয় সে বিজয়ী, তোমারি কাছেতে হারিয়া।"
মানুষের দুঃখে কাঁদতে পারার মধ্যে যে আনন্দ আছে, তা অপু সেই প্রথম উপলব্ধি করল ....
- কই আপনি তো কাদলেন না, কেন্?
আপনি নীরবে আবার হাসলেন! সেই হাসিটা : ২০১৯ এর রানার্স হয়ে হেসেছিলেন! প্রতিবারই এইভাবে ম্লান হেসে কিছু শিখিয়ে চলে যান। কিন্তু সত্যি চলে যান কি? কি জানি! হেরে যাওয়ার হাসি কি জেতে কখনো কাঙ্খিত অভীষ্ট ?
ভেবে দেখুন আজ, হয়ত আমরা জিতেছি, বিরাট রেকর্ড করেছে, শামিও আগুন ছড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু ভেবে দেখুন তো পাঠক বন্ধু, এই মানুষ টা যতক্ষণ ক্রিজে ছিল আমরা কি ভাবছিলাম? উনি কিন্তু ভারতীয় বোলিংকে এই বিশ্বকাপে প্রথম বারের মতন অনুশাসন পর্বের দরজায় দাড় করিয়ে দিয়েছিলেন- কঠিনতম পরীক্ষার সন্মুখে। ভারতের জয়ের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে। কর্ণের মতন, কুরুক্ষেত্র প্রতিদ্বন্দীতার শেষ আশা ভরসা হয়ে।
হয়ত দুর্ভাগ্য, বিশ্বকাপ স্পর্শ করতে পারলেন না খেলোয়াড় হিসাবে। কিন্তু তিনি,কেন উইলিয়ামসন থেকে যাবেন হৃদয়ে, একজন নিপাট ভদ্রতার প্রতিচ্ছবি হয়ে । বিপক্ষ নায়ক রেকর্ড করলেও অভিনন্দন বয়ে যাবে নিরলস ভাবে তার হাসি-হাসি মুখে। কোহলি রেকর্ড করছেন তিনি উত্সাহ দিচ্ছেন, এই ছবি গুলো সুখস্মৃতির পাথেয়।
আচ্ছা, অজি স্লেজিং এর উদ্ধ্ত্য যদি স্বর্ণ লঙ্কার হদিশ দেয়, টাইম আউটের সুযোগ সন্ধানী প্রয়াসও একটি ম্যাচ হয়ত জেতায়! হয়ত বিষম বিস্ময় হয় বা ঘৃণা, তবুও তারা মন কি জিততে পারে?
পথের পাঁচালীর অপুর দল মনেমনে কর্ণ কে ভালবাসে, কেন যে "কেন্" কেই নীরবে আপন করে নেয়, কে জানে!
আসলে জেতার সকল সুযোগ থেকেও অপ্রত্যাশিত ভাগ্যের চাবুকে বিজয় হাস্য অধরা থাকলেও ভদ্র স্মিত হাসি টা বুঝিয়ে দেয়- একটা অন্তিম পরাজয় কেও হাসি মুখে মেনে নেওয়া সম্ভব!
এই মানুষটার হাসিটাই থেকে মনের গহীণে রয়ে যাবে আজীবন কাল।ক্রিকেটে ভদ্রতা থাকবেই, কেন উলিয়মসন আপনিও থাকবেন। কারণ আপনার মাধ্যমে ক্রিকেটের ভদ্রতা বেঁচে থাকবে!
আচ্ছা, জানেন আপনার মতন আরেকজন ভদ্র ক্রিকেটারও কিন্তু খেলোয়াড় জীবনে বিশ্বকাপ স্পর্শ করতে পারেননি। আপনি হয়ত চেনেন তাঁকে, জানেনও সেই মহিরূহ কে! সে টিম মেম্বার হয়ে - মিস্টার ডিপেন্ডেবল হয়ে -ক্যাপ্টেন হয়ে- দলের বিপদে প্রাচীর হয়েও বিশ্বকাপ ধরতে পারেননি -
আজ চেয়ে দেখুন: সমগ্র পারিপার্শিক পরিস্থিতি তাঁকে এখন কাপ স্পর্শ করাতে চাইছে!
আজ কোচ হয়েই হয়ত কাপ টি ধরবেন । ঐ যে কথায় আছেনা :
"ভালো লোকেদের শেষ অব্ধি ভালোই হবে"।
আপনার ভালো হবেই।
আসলে আমরা নিজেদের অপুই ভাবি, ভাবতে ভালোবাসি। আমাদের কর্ণ রা কল্পনায় জিতে যায় ...
"কর্ণকেই সব চেয়ে ভালো লাগে অপুর, তার প্রতি মমতা হয়। কর্ণের রথচক্র পৃথিবী গ্রাস করেছে; নিরস্ত্র নিরুপায় কর্ণ প্রাণপণ চেষ্টায় দু’হাত দিয়ে সেই চাকা মাটি থেকে টেনে তোলবার চেষ্টা করছেন। অর্জুন তাঁর অনুরোধ উপেক্ষা করে অসহায় অবস্থায় তীর ছুঁড়ে তাঁকে বধ করলেন। এই ঘটনা মায়ের মুখে শুনতে শুনতে অপুর শিশু-হৃদয় বেদনায় ভরে যেত, দু’চোখ ছাপিয়ে উঠত অশ্রুতে। মানুষের দুঃখে কাঁদতে পারার মধ্যে যে আনন্দ আছে, তা অপু সেই প্রথম উপলব্ধি করল।"(সূত্র অপুর কল্পনা, ক্লাস নাইন এর লাইফ লাইন)
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন