কালের খেলায় খেলেন কালী,সময়ের খেলায় সকল বলি!
একটি আধুনিক ডিজিটাল মর্মে উদ্ভাসিত অফিস প্রচুর অর্থ ব্যয় করে মডার্ন এআই সিস্টেম দিয়ে কর্মীদের সময়ের মধ্যে বেঁধে ফেলার পরিকল্পনা করল,চেষ্টা করল কর্মী রা যাতে সকাল দশটার মধ্যে ঢুকে যায়। না হলেই বেতন ও ছুটিতে কোপ পড়বে। ওদিকে, সেই দেখাদেখি পাশের আরেকটি অফিসের রেজিস্টার বাবুর ও ইচ্ছে হোলো তার কর্মীরাও একই ভাবে সকাল-সকাল অফিসে আসুক। কিন্তু সাধ আর সাধ্যের মধ্যে পার্থক্যটা বাংলাদেশ এর ২০২৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপ এর সাধ আর সাধ্যের মতোই; অফিসের ভাঁড়ে মা ভবানী! সেই দ্বিতীয় অফিসটির এআই বা ডিজিট্যাল সিস্টেম তো দূর অস্ত,সর্বক্ষণের একজন দরোয়ান রাখতে গেলেও কফি আনতে চা বন্দক রাখতে হয়।
অতিরিক্ত খরচ নৈব নৈব চ, সে সব ভাবাও বিলাসিতা!
অগত্যা অফিস বাবু চিন্তিত মনে চা এর কথা ভেবে রেজিস্টার খাতার টি একপাশে সরিয়া রাখলেন। এই সমস্যা সমাধান কিভাবে হবে ভাবতে-ভাবতে নীচে চা এর দোকানে গেলেন , চা পান এর সাথে সমস্যা সমাধানের জন্য বুদ্ধির গোড়ায় ধূপধুনোদিতে। ধোয়াশা মাখা চা এর কাপ হাতে নিয়ে দোকানের দেওয়ালের দিকে তাকাতেই দেখলেন ক্যালেন্ডার থেকে মা কালীর একটি জিভ বের করা ছবি দৃশ্যপটে ল্যান্ড করল, কেমন একটা দিকশূণ্য পুরের উদ্দেশ্যে পা বাড়াল চিন্তা ভাবনা।
মনে পড়ল ,এক কালে কালী পূজার প্রবর্তক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশও এরকম অস্থির হয়েছিলেন। মা কালীর মূর্তি কি ভাবে সকলের সামনে আনবেন, কিভাবে শ্মশান এর ভীষণ কালী কে ঘরের স্নিগ্ধ মা রূপে সকলের সামনে নিয়ে আসবেন, এই ছিল তার চিন্তা ! হতোদ্যম হয়ে অনেক সন্ধানেও যখন তিনি দেবী মূর্তির কোনো কল্পিত রূপ দেখতে পাচ্ছেন না; তখন একদিন উষাকালে আলুলায়িত এলোকেশে এক শবর শ্যামা মহিলার হাতে ঘুঁটে দেখে চমকে উঠেছিলেন! আর ওনাকে দেখে সেই মেয়েটিও লজ্জা পেয়ে স্বল্প লাজুক হেসে জিভ কেটে ঘুঁটের হাত মাথায় তুলে দাড়িয়ে সন্ধান দিয়েছিল কল্পনার মাতৃ প্রতিমার। "মা আমাকেও পথ দেখাও, এই অফিসের কর্মী রা যাতে নিয়ম মেনে অফিস আসে একটু দিশা দাও মা" বলে একটা পেন্নাম ঠুকলেন অফিস বাবু। তারপর চোখ খুলে দেখলেন জিভ বের করে মা কালী এখনো হাওয়ায় দুলে দুলে হাসছে!
হঠাত করে স্বল্প হাওয়ার পেলব ছোয়ায় পাশের চা এর টেবিলে রাখা খবরের কাগজ এর শেষ পাতা টা হাওয়ায় খুলে গেল।
অফিস বাবু সেদিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবলেন। তারপর উর্ধস্বরে জ্য় মা বলে আর্কিমিডিস এর গতিতে লাফাতে লাফাতে দৌড়ে ঘেমে উঠে নিজের ডেস্কে চলে এলেন। এসেই একটা কাঁচি-আঠার খোঁজ করলেন!
পরের দিন থেকে দেখা গেল দ্বিতীয় অফিসের সকল কর্মী পৃথিবীর যত্ত জ্যম-জেলি-আধ সেদ্ধ ভাত-অজুহাত সব দূরে সরিয়ে অফিসে ঢুকে গেছে! দশটার মধ্যে যে যার টেবিলে বসে কাজ করছে।
আর অফিস বাবু রেজিস্টার খাতা টায় চোখ বুলিয়ে দেওয়ালে পেপার কাটিং এ এর দিকে হেসে বলছে "থ্যাংক ইউ ভাই"।
ওদিকে "শাকিব আল হাসান" দেওয়াল থেকে হেসেই চলেছে। ও, হ্যা দশটা বাজতে এখনো তিন মিনিট দেরি।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন