আজ জিতেছে, কাল কি হবে?

একের পর এক হিংসা- দুর্নীতি- ব্যক্তি স্বার্থের জাঁতাকলে দেশটা-দ্বেষে ভরে গিয়েছিল। দিনের পর দিন- রাতের পর রাত; মনে হচ্ছিল এছাড়া আর কোনো কিছুই জানার-বোঝার নেই। সেই সকাল থেকে রাত কাটছে রাজনৈতিক নিন্মরুচির বিরোধিতা , কুত্সা,উপহাস কিংবা অনায়েসে ঘটিত হিংসাত্মক মৃত্যুর চর্বিতচর্বণের মাধ্যমে। এইগুলোই হয়ে দাড়িয়েছে হতভাগ্য সমাজের নিত্য চিত্র! এর থেকে পরিত্রাণের উপায়ে ভাবতে বসে দেখা যাচ্ছে হয় নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলাহোক : মানে গাঁধীজির সেই কপি ত্রয়ের মতন:
"বাজে কিছু দেখব না, বাজে কিছু বলব না, বাজে কিছু শুনব না"। সেক্ষেত্রে অনুপম এর গান গাইতে গাইতে "নিজেকে নিজের মতন গুছিয়ে নেওয়া" আর রুদ্রনীলের কণ্ঠে আবৃত্তি পাঠ "দাদা, আমি সাতে পাঁচে থকিনা "।
আর, এইভাবে দূর দ্বীপবাসী নিভৃতচারী না হতে পারলে? তখন কিন্তু একমাত্র উপায় সেই শুভঙ্করী গদাই লস্করী চালে চলা; একইভাবে ঘৃণা অসম্মানের স্রোতে শুধু বয়ে চলা।
এই ভাবেই, পাঁকের মাঝে ডুবন্ত কালে হঠাৎ খবর আসে একটা হাউই যান সব বাধা অতিক্রম করে ঝুপ করে নেমে এসেছে চাঁদের বুকে। সাথে সাথেই চারদিকের পরিবেশ পরিবর্তিত;
"কোথায় হিংসা  কোথায় দ্বেষ?
একশো চল্লিশ-পঞ্চাশ কোটি আনন্দে কাদিয়া বলে আমার দেশ-আমার দেশ।।"
নেই, আজকে হিংসার খবর নেই, বিদ্বেষ এর খবর নেই , উৎপীড়ন এর খবর নেই!
তবে সত্যিই কি আজকে দেশের কোথাও-কোনো প্রান্তে দুর্নীতি কি হয়নি? মানুষ কি মানুষ কে ঠকায়নি- প্রতারিত হয়নি? অত্যচার-দু:খ-মৃত্যু-উপহাস কি দামোদরের হাড়িকুড়ির মতন ধেয়ে আসেনি? এইগুলোর সব কিছুই হয়েছে, এবং নিয়ম মেনেই হয়েছে।কিন্তু সব কিছুর ঊর্ধ্বে,এই সব ভূলে হঠাৎ করেই হল্লা রাজার দেশ টা আজকে এক চাঁদের ভেলায় চেপে শুনডি রাজ্যে চলে গেছে।তাতে হয়েছে টা কি? কিছুই না!কি আবার হবে?  ঐ সম্মান-ভালোবাসা-আশা দেশের জয়গান ভেসে বেরিয়েছে আকাশে বাতাসে-  সবাই যে আজ জিতেছে! কিন্তু? কিন্তু, কাল কি হবে? কালের ঘরে যে শনি বেঁকে বসে আছে?

ইশ্শ, যদি বকরাক্ষস এর খিদের মতন দেশের ভিতর একটা করে চন্দ্রযান প্রতিদিন নেমে আসত ! প্র্তিদিন দেশটা জিতে যেত, তাই না? কি ভালোই না হোতো। কিন্তু অবুঝ মন যানে চন্দ্রযান একটিই! তাহলে, কিছু উপায় কি হবেনা?
আজকে তো নিভৃত মন বুঝতে পারল একটা ভালো কাজ- একটা ভালো সংবাদ দশটি বিদ্বেষের খবর কে কবরে পাঠিয়ে শ্মশানে ভাসান দিতে পারে। এরই মাঝে স্মৃতি গুলো ফিরে যাচ্ছে নব্বই এর দশকে, উদাহরণ। দেশের হাতে জ্বালানী ক্রয়ের বৈদেশিক সম্ভার নেই! বিস্ফোরণ-হিংসায় কম্পিত দেশ- ভীত দেশ, বিভক্ত দেশের মন! হঠাৎ এর মধ্যে আবির্ভাব ঘটল ব্যাট হাতে এক অচীন পুরের কিশোরের , দেশ তার হাতে তুলে দিল নিজেদের মালায় বাঁধার সুতো। সে তার কীর্তির ফুল দিয়ে দেশটাকে এক মালায় গেঁথে দিল;  এক মন এক প্রাণ হয়ে খেলার দিনগুলোতে একই স্বপ্নে ভেসে বিভোর হয়ে কেটেগেল দুুটো দশক।

তাই আর কি, আগামী কাল ভালো ভাবে ভেবে দেখতে হবে দেশ কি ভাবে আবার মিলেমিশে এক হয়ে যাবে! একটা আঠেরোর ছবি ভেসে উঠছে!  ভালো করে খুঁজতে হবে আঠেরো বছর বয়সের সেই লাইনটা: 
"বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী
এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে।"
রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ, আজকে তো দেশ এক হয়েছে । কালকে তুমি তোমার মতন খেলো। আমরা আবার আগামীকাল এক হবো ; বসে রইলাম আশায় আশায়। হ্যা তার পরের দিনও পুনরায় এক হবার আশায় দেশ অপেক্ষমান হবে আবারো কোনো চেনা-অচেনার এগিয়ে যাওয়ার পথের দর্শক হয়। দেশবাসীও একসাথেই যাত্রা করবে ,কখনো হাসবে- কখনো কাঁদবে। কিন্তু দেশ এগোবে নিশ্চিতভাবে, এক সাথে মিলেমিশে বাঁচতে। 🇮🇳

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।।

ছবি: সূত্র ইনটারনেট


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"