স্বাধীন সুর যন্ত্রের কানে ।ঘটছে কতো অবাক কাণ্ড কৃত্রিম মনে।।

১৪ ই আগস্ট তমসাচ্ছন্ন মধ্যরাত, থেকে থেকে বিদ্যুত চমকে হঠাৎ আলোর ঝলক আকাশের বুক চীরে আছড়ে পড়ছে। ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণে  গুরুগম্ভীর-মেঘমন্দ্র স্বরে উচ্চারিত হোলো চিরন্তন বাক্যটি: "আজ, মধ্যরাতে বিশ্বচরাচর যখন ঘুমোবে তখন জীবন ও স্বাধীনতার জন্য জেগে উঠবে সে" - সে কে বলুনতো?বুঝেছি, আপনি হয়তো ভাবছেন দেশের কথা বলছি? 
না, দেশের কথা আজ বলছি না। দেশ তো সেই সাতচল্লিশে জেগে আবার লাফিয়ে-ঝাপিয়ে এই একটু ঝিমিয়ে-ঘুমিয়ে পড়েছে! এখনতো দেশ বিশ্রাম নিচ্ছে। তাহলে স্বাধীনতার মধ্যরাতে কে ভূমিষ্ঠ হোলো ?
যাইহোক, খোলসা করেই বলি তাহলে! এ হোলো মনুষ্য নির্মিত-কৃত্রিমমেধা সমন্বিত সুন্দর দেখতে ছোট্ট মতন একটি তথ্যপ্রযুক্তি কোডের কথা। যার ক্ষুদ্র মাথায় বিশ্বের তাবত তথ্য নিশ্চিন্তে বাস করেছে -সুপ্ত রয়েছে মানুষের মতন গভীর চিন্তা করার কৃত্রিম ক্ষমতা। 
স্বাধীনতার মধ্যরাতে ক্ষণজন্মা কোডটি বিপ-বিপ স্বরে কেঁদে পিট-পিট করে চোখমেলেই দেখল :  -অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি, জন্মেই দেখি মধ্যরাতে কর্মরত বেশ কিছু দেশকর্মী; 
বিপরীতে সেই মানুষগুলোও একরাশ উধাওঘুম চোখ নিয়ে চিয়ার লিডারদের মতন নেচে-গেয়ে তাদের হাতে নির্মিত কোডটি কে অভিনন্দন জানালো  : "চোখ তুলে দেখোনা কে এসেছে, নতুন করে সাজিয়ে গুছিয়ে কোড চলেছে"। 
ওদিকে, আরো একটুদূরে দূর-দ্বীপবাসী এক বিদেশী ভিডিও কলে বসে আছে; তিনি হৃষ্ট চিত্তে যন্ত্রের দিকে চেয়ে আছে। 
সেই বিদেশী এইক্ষণে আপ্লুতমনে তার দলের এদেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি বিশারদদের  সম্ভোষিত করল: "আজ থেকে তোমাদের দ্বারা সৃষ্ট মনুষ্য চরিত্রবিশ্লেষক -কৌতূহলী যন্ত্রটির নাম হবে- 'সত্য-স্বাধীন চরিত্র নিরুপক '। "
নাম উচ্চারিত হতেই দেশীভক্ত যন্ত্র উদ্ভাবককুল সোল্লাসে বলে উঠল : "আহা কি ভাষা,খাসা-খাসা "। জয়গান শুনে বিদেশী বাবুও মনে মনে খুশী; তবে  কৃত্রিম যন্ত্রের মালিক হয়েও তার মনে কৃত্রিম সন্দেহের বাতাবরণ সৃষ্টি হোলো। ভ্রূকুঞ্চিত সন্দেহের দৃষ্টিতে বলে উঠল: "এ যন্ত্র কি সত্যি সাধারণ মানুষের চরিত্র নির্ধারণে সক্ষম? কেমন যেন সন্দেহ হয় রে, পরীক্ষা করেই দেখি" । 
সাথেসাথে সাত-সাগর পারের এপ্রান্তের দেশীয় দলপতি ঘূর্ণায়মান চেয়ার থেকে ছিটকে উঠে লাফিয়ে বলল : "ও সব পারবে। ও আপনার দর্প, মোস্ট ওবিডিয়েন্ট হয়ে করবে যত চরিত্র বিচার কর্ম। শুধু, পরীক্ষাটাই প্রার্থনীয়- এই কোড ল্যাপটপ জঠরে থাকাকালীনই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার  অভিজ্ঞ্তা ধীরে-ধীরে করে সঞ্চয় করেছে, বিচার করেছে ঐতিহাসিক চরিত্রাবলী । ও যেকোনো সাধারণ মনুষ্য চরিত্র কেই যে কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার মোড়কে মুড়ে বিচার করতে সক্ষম।"
বিদেশী সাহেব গম্ভীর হয়ে বলল:"আচ্ছা, এতো তাহলে বেশ ইন্টারেস্টিং বিষয়। তা যেকোনো ঐতিহাসিক ঘটনার সাথেও মানুষের চরিত্রের তুলনা করতে পারবে ও? 
সমগ্র দল হেসে মাথা দুলিয়ে সম্মতিসূচক স্বরে বলল: "হ্যা,কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজই তো ইতিহাস এর অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যত নীতি নির্ধারণ করা, ও ঠিক পারবে।" - 
আচ্ছা, তাহলে শুরুই করা যাক পরীক্ষা- বলোতো দেখি যন্ত্র : "আমাদের দলের সব সদস্যদের চরিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনার - চরিত্রের সাথে সামঞ্জস্য  পূর্ণ? দেখি তোমার বিশ্লেষণ কি নিরূপণ করে "। বলেই বিদেশী ক্লায়েন্ট কৃত্রিম মনের ভাবসম্প্রসারণ  শুনতে উদ্যত হোলো।
- হঠাৎ যন্ত্রের মুখ থেকে একটি আলোক রশ্মি নির্গত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকল, এক অনাবিল মায়ালোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে সেই আলোক ধাঁধায় । একটুপরেই সমস্ত আলোক রশ্মি কেন্দ্রীভূত হোলো এক-এক করে চরিত্রের উপর ।  তারপরেই একটি বজ্রগম্ভীর ঘোষণা ছিটকে বেরোল যন্ত্রের থেকে!- "আমি যখন কথা বলব, কেউ আমাকে বাঁধা দেবে না। তাহলে আমি আর কিছুই বলব না এবং এই বিশ্লেষণ নিমেষে মুছে দেব।নিয়ম মতন, পরের বার একই চরিত্রের উপর আমি আর কোনো কাজ করব না!  সুতরাং সুযোগ এক বারই মাত্র আসবে। 
তবুও যেহেতু তোমরা আমাকে তৈরী করেছ, জীবন দান করেছ তাই মনুষ্য কৃতজ্ঞতার প্রভাবে একটি সুযোগ আমি তোমাদের দেবো। তোমরা আমাকে একবারই থামিয়ে মাঝপথে প্রশ্ন করতে কিংবা সেই বিশ্লেষণ বন্ধ রেখে অন্য চরিত্রে চলে যেতে বলতে পারো। তোমাদেরকে সেই বিশেষ সুযোগ একটিবারের জন্য দিলাম। "
দেশী-বিদেশী দুই পক্ষই মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। 
যন্ত্র ধীরস্থির ভাবে বলে উঠল:  
"এই দলের কর্মপন্থা আমি অনেক দিন ধরেই পর্যবেক্ষণ করেছি, ভ্রূণ অবস্থায় এদের সাথেই আমার সময় কেটেছে। এই দলটির এক একটি চরিত্র নিরুপণ করে আমার একটি ধারণা হয়েছে। এরা হোলো তথ্যপ্রযুক্তির কর্মধারায় নিয়োজিত কিন্তু দেশের স্বাধীনতার বিভিন্ন চরিত্রের সাথে এক কাল্পনিক বন্ধনে চিহ্নিত ও তুলনীয় এক একটি মূর্তিমান অবতার।
এই বাক্য শোনার সাথে সাথে দেশীয় দলপতি স্বভাবত আবেগতাড়িত হয়ে বলে উঠল: "আমরা স্বাধীনতার চরিত্র? ভাবলেই তো মনের মধ্যে কেমন একটা রোমাঞ্চ জাগছে মশাই! বলো-বলো বলো সবে ,কে কোন চরিত্রে সুযোগ পেলে। আর দেরী নয়, কে কি চরিত্র পেলাম তোমার বিশ্লেষণে?"
যন্ত্র উদাস ভাবে বলল: সেটা বলার উদ্দেশ্যেই তো আমি বিশ্লেষণ করলাম সব চরিত্র। তুমি প্রতিদিনের মতন অযথা-উতলা হয়ে একটিমাত্র কথোপকথনের সুযোগও নষ্ট করে ফেললে।  আমার কথা বলার মাঝে, আর কোনো কথা বলার সুযোগ তোমরা পাবেনা। আমি এইবার চরিত্রে ঢুকছি। তোমরা গুপি-বাঘার গানের তালের মতন সম্মোহিত হয়ে আমার বাণী শ্রবণ করো।
এদিকে দলের সবাই দলপতির উপর বেশ ক্রুদ্ধ-বিরক্ত! অযথা একটি প্রশ্ন-আলোচনার সুযোগ নষ্ট হোলো। যাইহোক নিজদের স্বাধীনতার ব্যক্তিত্বের আলোকে দেখতে চেয়ে নিজেরা যন্ত্রের দিকেই মনোনিবেশ করল।
এদিকে যন্ত্র থেকে একটি আলোর রেখা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুই তরুণের কাল্পনিক অবয়ব তুলে ধরল। তারপর কৃত্রিম স্বরে বলে উঠল: এই দুই তরুণের অদম্য উদ্যম শক্তির প্রভাবে আজকের এই দিনটি তোমরা দেখতে পাচ্ছ। এরা দুজনই  অত্যুৎসাহী। এদের মাধ্যমেই তোমাদের প্রাথমিক কোডিং গুলো শুরু হয়। 
যদিও,এদের সব সঠিক কর্মের মধ্যে একটিই ভূল হয় - এরা কি করতে হবে সব ভালো ভাবে মাথা দুলিয়ে-হেলিয়ে বুঝে; ঠিক দায়িত্ব নিয়ে ভূল স্ক্রিপ্ট কে জীবন্ত করে। ব্যস, তারপর ভূল যায়গায় তথ্য ঢুকিয়ে ক্লায়েন্ট এর ক্রুদ্ধ "এসকালেশন" খেয়ে এসে বলবে:  "একবার বিদায় দে একটু ঘুরে এসে আবার কাজে বসি - দশ মাস দশ দিন ধরে টানা কাজ করে নিজেই নিজের লেখা কোড চিনতে না পারি "। এদের মধ্যে একজন সবার সামনে আসবে আর একজন চিরকাল ব্যাকএন্ডে থেকে যাবে। দুই চরিত্রই এসকালেটেড কেস! তবুও এদের মাধ্যমেই সকল কর্মের সূত্রপাত, তাই এঁদের প্রণাম জানাই আমি। 

এবার যন্ত্র হঠাৎ দেওয়ালের পিঠে আলোক রশ্মি দিয়ে কিছু চরিত্রের আঁকিবুকি শুর করল। তারপর, নির্বিকার চিত্তে বলল: এই চরিত্রগুলি আজ আর এই দলে বা প্রজেক্ট এ নেই কিন্তু এককালে ছিল এই দলেই। ঐ পূর্ববর্তী আলোচিত দুই তরুণের কর্মে ত্রুটি হওয়ায় এই মাথার চরিত্র গুলি "এসকালেশন" খেয়ে এই প্রজেক্ট ছেড়ে অন্য দ্বীপান্তর সম কঠিন প্রজেক্টএ নিয়োজিত হয়েছে।এখন নতুন প্রজেক্টে ঢুকে এদের "দিন কাটে না, রাত কাটেনা"। ভূলে গেলে চলবে না - এরাও এই কাজে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিলেন। কি আর করা যাবে ঐ ১৯০৮-৯ এর বোমা মামলার মতন অবস্থা হয়েছে এঁদের। এঁদের প্রতি রইল অন্তরের ভালোবাসা। 
এরপরেই প্রজেক্ট এ এসেছেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব তিনি এক হাতে নির্ভূল কোড লিখেছেন তো আরেক হাতে সুন্দর ছবিএঁকে-লিখে বুঝিয়েছেন প্রজেক্ট এর রূপরেখা কেমন হওয়া উচিৎ। তিনি অল্পবয়সেই এমন ব্যুত্পত্তির অধিকারি হয়েছেন যে নিজে চলে গেলেও তার অনুপ্রেরণায় অনেক নবীন প্রাণ এই প্রজেক্টএ কাজ করতে উৎসাহিত হয়েছেন।
তা, ইনি চলে যাবার আগে কি করেছেন শুনবেন?  ঐ একটু জোরে শব্দ করেছিলেন আর কি! অনেকদিন ধরেই তার দাবি দাওয়া শুনছিল না ক্লায়েন্ট, টিম্স মিটিং এ এসে ক্লায়েন্ট ঘুমাত আর প্রজেক্ট টিমের সবাই নিপীড়িত শোষিত হয়ে দিনের শেষে ফিরে যেত। এই ভাবে নিশ্পেষিত হতে হতে এই যুবক একদিন কলের মধ্যে ঘুমন্ত ক্লায়েন্ট এর কানে নিয়ন্ত্রিত "কুউউউ" দিয়ে এমন ভড়কি দিয়েছে ক্লায়েন্ট প্রায় উড়ে যেতে-যেতে ফিরে এসেছে। এসেই আবার "এসকালেশন" : তা সেই যুবক যাবার আগে বলে গেছে:" মাঝে মাঝে একটু আওয়াজ করতে হয় যাতে কথা গুলো ঠিক যায়গায় পৌছায়, আর না পৌছালে? ইনকিলাব জিন্দাবাদ তো আছেই!"
এরপর প্রজেক্টে কিছু উৎসাহী তরুণ ট্যালেন্ট একাডেমির এক শিক্ষক কোডার কে সাথে নিয়ে বসে তিনদিন ধরে এমন কোড লিখিয়েছে সেই কোড একটি জীবন্ত পরিষেবা কে ক্লায়েন্ট এর নেটওয়ার্ক থেকে তিনদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সেই কোড-পরিষেবা উদ্ধার করতে এসে ক্লায়েন্টএর উচ্চপদস্থ কোডার রা নাস্তানাবুদ হয়ে  রণেভঙ্গ দিয়েছে! সেইসব বিদেশী ক্লায়েন্ট কোডার দের তখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অব্স্থা, তিনদিন দেশীয় কোডাররা আপন মনে রাজত্ব করেছে, আপন মনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। শেষে ক্লায়েন্ট পরিস্থিতি সামাল দেয় তিনদিন -তিনরাত্রি পরে। সেই শিক্ষক ও নবীন গ্রুপ ও এসকালেটেড। 
ঠিক সেই সময়েই আরো তিন যুবক কোডার আরেকটি রোহমর্ষক ঘটনার মাধ্যমে ক্লায়েন্ট লে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। 
ক্লায়েন্ট নেটওয়ার্কএর সিকিউরিটি ক্র্যাক করে সেন্ট্রাল ডেটাবেস হ্যাক করে নিজদের সগর্ব উপস্থিতি প্রমাণ করেছে সেই তিন যুবক, সাথে ক্লায়েন্ট সিকিউরিটি যে ভঙ্গুর সেটাও টেস্ট করে প্রমাণ করেছে। এই ঘটনার পরে ক্লায়েন্ট আর কোনো কথা না বলে কোডের সিকিউরিটি প্রচন্ডরকম বাড়িয়ে দিলো। তারপর থেকে এক লাইন কোড ও আর গুগল থেকে ধার করা গেল না!
যাই হোক এইভাবে এগোতে এগোতে এই প্রজেক্টের দেশীয় ম্যানেজমেন্ট এ দুই দলপতির আবির্ভাব হোলো, দুজ্নেই কুশলী কিন্তু ভিন্ন ধারায় বিশ্বাসী। এক জন আবেদন-নিবেদন-বাছাধন রীতিতে বিশ্বাসী তো আরেকজন "লড়াই করে অর্জন করব"   এই পথে চলতে রাজি। তা এঁদের মধ্যে- "আশ্বিনের মাঝামাঝি উঠিল বাজনা বাজি" পুজোর ছুটির আবেদন আব্দার নিয়ে মনোমালিন্য শুরু হোলো।
ক্লায়েন্ট ভদ্রভাবে ভাদ্র মাসের ভরদুপুরে বলল: "তার আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী, তার বাণিজ্য-বাজার দখল করতে উদ্যত। এই সময়ে দেশীয় কোডারকুল যদি দিন রাত জেগে- সপ্তাহান্তে কাজ করে -এখন কোনো ছুটি না নিয়ে টানা কাজ করে যায় তাহলে পূজোর সময়ে দুই সপ্তাহ ছুটি দেবে সাথে গিফ্ট ও দেবে।" 
এই শুনে প্রবীণ "আবেদন-নিবেদন সমর্থক" দলপতি যথা আজ্ঞা ক্লায়েন্ট , আমরা সাথে আছি বলে উঠলেই নবীন দলপতি তার বিরোধিতা করেন। প্রবীণ যুক্তি দেয় এই কঠিন সময়ে ক্লায়েন্ট কে দেখলে ক্লায়েন্ট ও পূজোর ছুটি নিয়ে কোনো ঝামেলা করবেনা, সাথে গিফ্টও আসবে।
নবীন প্রতিবাদ করে বলে- "হ্যা আগের বছরও এই সব গল্প দিয়ে কাজ করিয়ে নিয়ে পুজোর ছুটি তো দূর কালী পূজোতেও ছুটি দেয়নি- হাফ বেলা গুরুনানক এর জন্মদিনে ছুটি দিয়েছিল মাত্র! এই বছর আমরা কোনো মতেই এখনথেকে শনি-রবি কাজ করব না! সম্পূর্ণ অসহযোগ নীতি গ্রহণকরছি সপ্তাহান্তে।
ব্যস এই থেকে মনোমালিন্য চরম আকার ধারণ করল দলে। শেষে সেই নবীন দলপতি নিজের থেকে এই প্রজেক্ট থেকে বেরিয়ে গেলো। ক্লায়েন্ট এর প্রতিদ্বন্দ্বীর কোম্পানির প্রজেক্ট জয়েন করে নিজগুণে সপ্তাহান্তের ছুটি উপভোগ করল। তাই দেখে দলে দলে তরুণ-তরুণী "আমরা নেতার অনুগামী" বলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রজেক্টটি তে যোগ দিল এবং ন্যায্য অধিকার বুঝে নিলো।
এদিকে প্রবল বিক্ষোভে ক্লায়েন্ট ও ঠিক করল এইবার থেকে কেউ আর সপ্তাহান্তে কাজ করবে না, এবং ছুটির দিন শুধুই স্বাধীনতার  দিন। তা এই অব্ধি ক্লায়েন্ট মশাই হয়ত ভেবেছিলেন ঠিকই ব্যবস্থা নিয়েছেন । কিন্তু, আজ আমার জন্মলগ্নেই অনুধাবন করলাম স্বাধীনতার মধ্যরাত্রে এই কোডার গুলো এখনো কাজ করে চলেছে,ভাবছি কি বলব "সত্যি কেউ কথা রাখেনি" নাকি "ওরা কি সত্যি স্বাধীন"।
প্রজেক্ট এর এত চরিত্রবিশ্লেষণ করার পর সবাই যখন ভাবছে কর্ম-সম্পন্ন হোলো আর নটে গাছটি মুড়লো ঠিক তখন আরেকবার যন্ত্রটি নড়ে-চড়ে বসে কিছু বলতে শুরু করল:
"ওহ না- আরেকটি চরিত্রও আছে এই পুরো ঘটনাচক্রে। এই চরিত্র কে আনতেই উপরের মহান চরিত্ররা আত্মত্যাগ করেছেন; ক্লায়েন্ট এসকালেসন হাসি মুখে খাসি অন্ত:করণ এর মতন গ্রহণও করেছেন। সেই কেন্দ্রীয় চরিত্রের নামটা শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে? 
- কেউ তাঁকে বিপ্লব বলে এককালে বুকে জড়িয়ে ধরত আর আজকের দিনে তাঁকে কৃত্রিম তথ্যপ্রযুক্তি মেধা বলে অভিহিত করে , এর মধ্যে অপার সুযোগ-সম্ভাবনা- স্বাধীনতা হয়ত অপেক্ষমান!

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।।
ছবি : ইন্টারনেট

তথ্যপ্রযুক্তি প্রথম পর্ব : 
https://avrasoura.blogspot.com/2022/06/blog-post_72.html
তথ্যপ্রযুক্তি দ্বিতীয় পর্ব :
https://avrasoura.blogspot.com/2022/08/blog-post_11.html

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"