আমাজন প্রাইমে "পঞ্চায়েত" এক শান্তির স্বপন। আমাজনের জঙ্গলরাজে "পঞ্চায়েত" ধ্বংস সাধন।।
"আমাজন" তো আজকের দিনে একটি দ্বৈতার্থক শব্দ, একদিকে "জঙ্গল" আরেক দিকে ভিন্ন ধরনের বিনোদন এর অনলাইন প্রচার মাধ্যম। এইবার একটু কষ্ট করে এর সাথে শুধু "পঞ্চায়েত" শব্দ টা জুড়ে দিন, ব্যস এইবার আপনি ধীরেধীরে দেখুন আপনার চিন্তন-মনন গুলো ঠিক কি ভাবে; কোনদিকে অগ্রসর হচ্ছে?
ও, আচ্ছা আপনি তো একদম ঠিক ভাবছেন, সঠিক পথেই এগিয়ে চলেছেন। "আমাজনের পঞ্চায়েত" মানেই আপনি দেখতে পেলেন সেই সুন্দর স্বপ্নের সম্পর্কের মালা নিয়ে কল্পনার বিনোদনের উদয়। - যেখানে কিছু মানুষ সহজ -সরল- ভালোবাসা- মানবতা-র বন্ধনে আপনাকে পরপর দুটি পর্যায়ে বেঁধে দিয়েছে। সেই বন্ধনের সুখদৃষ্টিতে আপনি ভেবেও নিলেন সত্যি তো এটাই গ্রামের ভালোবাসার "পঞ্চায়েত"। এইখানে প্রধানজি র সাথে বিরোধীর ঝগড়া হলেও সেটা তো খুনসুটির কৌতুক জাগায় মনে। ওদিকে, আপনি অনেক ভেবে-হেসেও কূল-কিনারা পেলেন না একটি ডাগর সবুজ "লাউ" কিভাবে কাটমানির ভূমিকায় উতরে গেল! আপনি গত তিন বছরে এই সুখে ভেসে ভেবে আমাজন প্রাইম এর ওয়েবসিরিজে মজে আছেন।
হঠাৎ অদ্য প্রভাতে এক অন্য পঞ্চায়েত অবলোকন করলেন। কি দেখলেন বলুন তো?
কি আর, মাত্র ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ জন পঞ্চায়েত সদস্য এক রাতের মধ্যেই তাদের অভিনয় শেষ করেছে, ওহ না শেষ করতে বাধ্য হয়েছে বলাটা মনে হয় সমীচীন হবে। সেই কুশীলব দের রক্ত ধারায় বঙ্গের রঙ্গমঞ্চ আজ ধুয়ে মুছে একটি ক্ষীণ প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল বঙ্গ মায়ের রিক্ত ক্রোড়ে ?
- কিরে, মা তুই নাকি আজ এই মাটিতে রাজনীতির শিকার! আজকে তো এই মুহূর্তে আমরা পঁয়ত্রিশ জন চলে যাচ্ছি তোর থেকে বহুদূরে।খুব কষ্ট হচ্ছে রে চলে যেতে, পরিবার-পরিজন সবাইকে ছেড়ে যেতে, তোকে ছেড়ে যেতে, আর হ্যা যারা আমাদের শেষ করল তাদের ছেড়ে যেতে। নির্বাচন এর যূপকাষ্ঠে যারা আমাদের উৎসর্গ করল তাদের কাছে জেনেও যেতে পারলাম না একটা কথা- আমাদের এই ক্ষুদ্র তুচ্ছ দিনআনা-দিনখাওয়া প্রাণ গুলো নিয়ে কেউ কি খুব খুশী হোলো - খুব কি লাভবান হোলো ?
ওরা কি একবার ভেবে-বুঝেও দেখল না তোর কোলে বেড়ে ওঠা আমরা সবাইএক ভাই-বোন ছিলাম, এক বাংলার বায়ু-বাংলার জল এ বেড়ে উঠলাম এতদিন, বাঁচার মাটি তো সেই একই ছিল আমাদের। আলাদার মধ্যে কি করেছি-
চার দলের ভিন্ন রঙের অন্য ভাবনার চারটে জামা পড়ে শুধু ঘুরেছি;
কিন্তু সেই জামার-নীতির এত বিরোধ যে আমাদের একেবারে সরিয়েই দিলি! যাক, কালকে থেকে এই পঁয়ত্রিশ জনের জন্য মা তোকে আর জল-মাটি-ধান-মাছ নিয়ে পাত আগলে বসে থাকতে হবে না।
জানিস মা , এই আজকে অন্তিম শ্বাস গ্রহণের আগে অব্ধি আমরা এই পঁয়ত্রিশ জন ছিলাম আলাদা দলে-আলাদা নীতি তে - অথবা ভোট দিতে আসা ভোটকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়ানো গণতন্ত্রের পূজারী । কিন্ত আজ সূর্য ডোবার বেলায় আমরা সব এক দলের হয়ে গেছি। আমাদের পরিচয় এখন একটাই - আমরা "রাজনৈতিক হিংসার বলি পঁয়ত্রিশ লাশ"!
দেখলি মা, শেষে "বলি" র তকমাও সেঁটে চলে গেলাম আমরা। স্মৃতির অতলে ডুব দিয়ে দেখিস তো, তোর কোল থেকে কতযুগে কত রাজনৈতিক প্রাণ ঝরে গেছে, প্রণম্য হয়ত তারা । তারা অনেকেই রাজনৈতিক শহিদ এর পরিচয়ে যেতে পেরেছে, মর্যাদা পেয়েছে তার মৃত্যুর, আত্মপ্রসাদ লাভ করেছে চরম আত্মত্যাগের। ওরা শুনেছিলাম রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রেরিত ছিল, সামনে কোনো মহান আদর্শকে আঁকড়ে ধরে হাসতে হাসতে প্রাণ দিয়েছিল-রাজনৈতিক শহিদ ও হয়েছিল।
আর আজকে আমরা যখন চলে গেলাম আমদের তো আত্মত্যাগ এর বিষয়ই ছিল না, ছিল গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসবে মেতে ওঠার দিন।
যাক, আজ গণতন্ত্র কথাটা খুব ফিকে লাগছে শুনতে-বলতে! শুধু এটা বুঝেছি কোনো বাহিনী- কোনো নীতি- কেউ এই ধ্বংস থেকে তোকে মুক্ত করতে পারবে না মা ! এর থেকে মুক্তির একটিই উপায় আছে, তোর সব সন্তান কে একসাথে উপলব্ধি করে বলতে-ভাবতে হবে: "সামনের ভোট থেকে আর একটিও মৃত্যু নয় এই প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ হলাম আমরা সবাই" ।
আর তা না হলে কি হবে বলতো মা?
তুই কিন্তু কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে আজ দাড়িয়ে আছিস , আজ আমরা তোকে বিদায় জানালাম সামনে আরো অনেকে তোকে ধীরে ধীরে এক একটি নির্বাচনকালে বিদায় জানাবে। তুই বিদীর্ণ বুকে সেই বিদায় সম্ভাষণ গ্রহণ করিস, আর যদি তা না পারিস তাহলে আজকের পরেই অবিলম্বে এই হত্যালীলা চিরতরে ধ্বংস করিস। কায়োমনোবাক্যে এই কামনা করি, যাতে
আমজনতা এর পর থেকে আমাজনের জঙ্গলরাজ-পঞ্চায়েত হিংসা ভূলে যাক; অতি সত্ত্বর অগ্রসর হোক আমাজন প্রাইম এর কল্পনার পঞ্চায়েত বাস্তবায়নের পথে। পারলে আজ থেকে-এই মূহুর্ত হতেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হোক। তোর সন্তানরা বাঁচলেই তুই কিন্তু বাঁচবি বঙ্গ মা, ভালো থাকিস
- যাক আজকের মতন চলি।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন