ছাই চাপা আগুন।।

খেলার শেষ প্রহরে বলটা যখন উড়তে-উড়তে সীমানা পারকরল, সেই মুহূর্তে সেই চরিত্র কি কিছু বার্তা দিয়ে গেল? ছোট্ট একটা বার্তা ভেসে উঠল দুই চক্ষে : "চাপা আগুন এর স্বপ্নপুরণ"। কি ভাবে সেই স্বপ্নপুরণ হয়ে চলেছে বলুন তো যুগে-যুগে দিনে-দিনে? চলুন একটু খুঁজেই দেখি পাই কিনা অমূল্য স্বপন-রতন !

আচ্ছা,একটা বিষয় পর্যবক্ষেণ করলে অনেক সময়েই দেখবেন নিজের আশেপাশে কর্মক্ষেত্রে-সমাজে-পরিবারে বেশ কিছু চরিত্র থাকে যারা একটু নিষ্প্রভ। তাদের অবস্থান হয়ত থাকে কিন্তু তাদের নিজস্ব প্রতিবেদন থাকেনা,
ঐ সবার কাছে একটা সংখ্যা-নাম- আইডি-সম্পর্ক হিসেবেই রয়ে গেছেন তারা। কখনোসখনও  কেউ হয়ত উপহাসের নজরে দেখলেও এদের উপস্থিতি নজরে আসে, তা না হলে সেই এরা যাত্রাপথের চরিত্র হয়েই থেকে যান:  "ওই পঁয়তাল্লিশ নম্বরের ভানুমতী কখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি।"
এদের অব্স্থা অনেকটা  নিমন্ত্রণ বাড়ির মহাভোজ থালায় নিতান্ত নুন-লেবুর টুকরো  : মাছ-মাংস-পনির-মিষ্টি র কৌলিন্য যেমন এইসব চরিত্র দের নেই আবার ভাত-পোলাও এর মতন ব্যাপ্তিও নেই, নেই জলের মতন পুণ্য শূণ্য জীবন। তবুও সেই সব চরিত্রের ঠাই জোটে এক কোণে, নিভৃত মনে। দলমত-সমাজ-পরিবারেরর কিছু সিদ্ধান্ত নিতে এদের মতামতের প্রয়োজন আছে বলেও কেউ মনেই করেনা-
এদের কাছে শুধু পৌছায় নির্দেশ-আদেশ-ঘোষণা। এরাও চুপচাপ শুনে বুঝে কাজটা করে দেয়। এদের থেকে চহিদাও ঐটুকুই, অন্যের নির্দেশিত পথে আজ্ঞাপালন।
এদের নিজেদেরও কিন্তু কোনো সরব অভিযোগ নেই সেই ব্যপারে। তবুও কিছু চরিত্র স্বপ্ন দেখে, কিছু চরিত্রের বুকে আগুন জ্বলে ওঠে !
কিছু চরিত্র থাকে যারা নিভৃতে তৈরী হয় ,বেশ বুঝে নেয় : মুখেন মারিতং এদের দ্বারা অসম্ভব । তাই দিনের পর দিন নির্জন নিরলস অধ্যাবসায় আয়ত্ত করে বিশেষ ক্ষমতা-বিচক্ষণতা। তার সাথে শুরু হয় আরেক নীরব প্রতীক্ষা, একটি দ্বিতীয় সুযোগ এর - সেই সুযোগ এর সদ্ব্যবহার এর।

ওদিকে কালচক্র হলো এমন এক বিস্ময়কর পরীক্ষক সেও প্রত্যেকের আরেকটি দ্বিতীয় সুযোগ এর ব্যবস্থা করে নিভৃতে। অক্স্মাৎ একদিন,  সমাজ-পরিবার-দলের চরমতম বিপদের দিনে-সিদ্ধান্ত হীনতার দিনে; সেই নিভৃত চরিত্রেকে  জীবনের রঙ্গমঞ্চে আভিনয়ের সুযোগ দেয়- জীবনের দ্বিতীয় সুযোগ। সেই চরিত্র যদি নিজের সাধনায় সৎ থাকে সে সেই বিপদের দিনে এক নতুন দিশার সন্ধান দেয় , প্রবল প্রচেষ্টা করে বিপরীত পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের।
সেইদিন তার নবজাগরণে এ নিদ্রা-মোহ-ভঙ্গ হয় সমাজের সবার।জন্ম হয় চরিত্রের, জন্ম হয় বীরগাঁথার ।
আর, হ্যা সেই চরিত্র কে দেখে আরো অনেক নিভৃতলোকের বাসিন্দারা স্বপন বপন করে , অনেক নতুন কল্পনা বাস্তবায়নের সোপান খোঁজে।
সমাজ চলে এগিয়ে, কিছু আগুন ছাইএর তলায় জ্বালানি খোঁজে সন্ধ্যাপ্রদীপ হবার আশায়।।

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। 



মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"