টাইটানিকের অন্ধকার সিলিং থেকে "অদ্য শেষ রজনী"র শেষ আলো।।

আচ্ছা বলুনতো আজ থেকে পঁচিশ-তিরিশ বছর আগেও সপরিবারে টাইটানিক দেখতে বসলে গাড়ির দৃশ্য এলে পরিবারের কতজন পর্দার দিকে তাকিয়েছেন আর কতজন হলের সিলিং দেখতে-দেখতে অথবা চোখ বুজে অপেক্ষা করেছেন কখন তিনি আবার স্ক্রিনের দিকে তাকাবেন, না এই ব্যক্তি টি মানে পরিবারের যেকোন সদস্যই হতে পারেন!পুত্র-কন্যা-বাবা-মা-ভাই-বোন-কাকু-মামা সব চরিত্রের কোনো একটিতে তিনি দিব্যি মানিয়ে নেবেন নিজেকে। আসলে তিনি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের  সন্তান যিনি পরিবারের সামনে অন্য অনেক আলোচনায় অবতীর্ণ হলেও যৌন আলোচনা একদম নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করে রেখেছেন; হয়ত দেখেছেন এটাই নিয়ম এটাই হয়ে এসেছে । তাই অন্ধকার থেকে সত্য আলোর উত্তীর্ণের পথে তিনি ভাবতেও পারেননি , এক-চোখে সপরিবারে এক সত্য অবলোকন সম্ভব। চলুন আজ বরং বলি মধ্যবিত্ত মাঝবয়সী বাঙালীর সত্য উন্মোচন এর এক গল্প , হয়ত সেই সমাজ এই রতি-যৌনতা কে এখনো ইনকগনিটো মোডে বা চিলেকুঠির চটির ফাঁকেই লুকিয়ে উপভোগ করে চলেছে।
[পুনশ্চ : আহা, না! এই চটি মানে নীল সাদা হাওয়াই চটি না , এই চটি বটতলার সাথে কিছু সম্পর্ক রাখে ঐ আর-কি! ] যাই হোক চলুন দেখি কি সে বিষয় যা এক অবগুন্ঠন কে নিমেষে সরিয়ে দিল।  


৭৫ বার মঞ্চস্থ হবার পরে আজ শেষ বার মঞ্চস্থ হোল এই অসামান্য নাটকটি: "অদ্য শেষ রজনী"। এক সময়ের বঙ্গ সংস্কৃতি সমাজে কম্পন ধরিয়ে দেওয়া "বারবধূ" র মতন নাটক এর প্রেক্ষিত ও সময়কাল ধরা পড়েছে এই নাটকে।  অনির্বাণ এর অসাধারণ আভিনয়ে সম্পূর্ণ প্রয়াস টি সুন্দর ভাবে মঞ্চস্থ হয়েছে; যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন দেবযানী ও বাকি সদস্যরা।  
তা এই নাটকটির মাধ্যমে ঘোষিত হোল কয়েকটি অমোঘ বার্তা: এবং আরেকটি ধ্রুব সত্য যৌনতা। আচ্ছা আগে সমাজিক বার্তাগুলো একটু চোখ বুলিয়ে নেই,  আর শেষে না হয় থাকুক সত্যের উন্মাদনা। যাই হোক সমাজিক বার্তা গুলো হোল:
প্রথমত :
শিল্প ও শিল্পী র বেঁচে থাকার প্রধান উপায় তার সফল পেশাদারিত্ব মতে উন্নত বানিজ্যকরণ ।

দ্বিতীয়ত: 
আবার, বানিজ্যকরণের পেশায় একদা উত্তম সৃষ্টি যদি বারংবার চর্বিতচর্বণের মধ্যে দিয়ে যায়  শিল্প নিজের মাহাত্ম্য হারিয়ে সস্তার বানিজ্যিক দ্রব্যরূপে ঘুরে বেড়ায় । শিল্পের মধ্যে বারংবার বিস্ময়-নব উদ্ভাবিত উত্তেজনার প্রকাশ না হলে সেই শিল্প একঘেয়েমির বেড়া জালে অচিরেই বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাবে।

তৃতীয়ত:
স্রষ্টার মধ্যে আত্মচেতনা সত্যতা-যুক্তির প্রাকারে মুক্তির স্বাদ পেলে সেই সৃষ্টি মানুষ কে আকৃষ্ট করবেই । স্রষ্টা নিজে যা ভাবছে সেই ভাবনায়-সাধনায় নিজেকে সম্পূর্ণ সম্পৃক্ত করলে যে অমৃতসৃষ্টি হবে তা মান্যতা পাবে অন্য মননে।

চতুর্থত :
মানুষ এর জীবন সাফল্য ও হতাশার যুগপত সহাবস্থান। তাই, অনেক লড়াইয়ে পাওয়া সাফল্য যেমন একদিকে থাকবে সেই ভাবে একদিন সাফল্যবিমুখ হলেও আবার লড়তে হবে, আবার ভাবতে হবে নতুন উদ্ভাবনী সূত্রের সন্ধানে ব্রতী হতে হবেই।

অন্তিম সত্য :
আর সত্যি হয়ত,এককালে যে রতির বিষয় বঙ্গ সমাজ ফুলে-ফুলে দুলে-দুলে এর মাধ্যমে মেনে নিয়েছে বা দুই পক্ষীর প্রণয়ে দুই চোখ বুঝে ভেবে নিয়েছে এই ভাবেই মিলন হবে সেই ভাবনার সামনে অবগুন্ঠন উন্মোচন করেছে বারবধূ র মতন নাটক, প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে এই ভাবে রেফরেন্স দিয়ে "মিলন হবে কত দিনে?" যে মানুষ টা প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও নিজের পরিবারের সামনে যৌনতা নিয়ে ছোটা ভীম আর হাদা-ভোদার মতন আচরণ করে চলেছে তাঁকে বোঝাও যৌনতা স্বাভাবিক একটি জীবন প্রক্রিয়া ! তাই মঞ্চের এই নাটকে সত্য তুলে ধরেছে সেই রতিক্রিয়া-যৌন বিষয় যা সম্পূর্ণ বাস্তব, সম্পূর্ণ সত্য। সেই বিষয় যখন কোনো নাটকের বিষয় বস্তু হয় সেই নাটক তো ঘুম ভাঙিয়েই দেবে সমাজের, মধ্যবিত্তের।


আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগেও কোনো মধ্যবিত্ত মাঝবয়সী কি ভেবেছিল সে হয়ত তার মা-ভাই এর সাথে একত্রে বসে একটি "বারবধূ" বিষয়ক নাটক মঞ্চস্থ হতে দেখবে, সত্যি কি ভেবেছিল? কিন্তু সেই মধ্যবিত্ত সমাজ সপরিবারে দেখল, আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগেও পারিবারিক ভিত্তিতে যে সংখ্যা ছিল নগন্য আজ সেই নাটক এর প্রেক্ষিত নাটক এর খোলামেলা সত্য দেখতে ঝাপিয়ে পড়ল বাঙালী মধ্যবিত্ত সপরিবারে। 


আজকের দিনটা  অনেকটা পথ এগিয়ে আসার এক পদক্ষেপ, হয়ত সামনে আরো অনেক অনেক পথ চলা রইল বাকি, কারণ ভালোবাসা-যৌনতা-সৃষ্টি হোল সত্যের প্রকাশ।।


©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ।। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"