পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

রিসেশন এর মাটিতে ডেভিড ও গোলিয়াথ

ছবি
২০২৩ এর পড়ন্ত বিকেলে তথ্যপ্রযুক্তি অফিসের টপ ফ্লোরের স্বচ্ছ জানালা দিয়ে সূর্য টা টুপ করে ডুবে গেল। একটা দীর্ঘ মিটিং শেষে কফির মগে চুমুক দিয়ে মুঠোফোনের দিকে তাকাতেই চমকে উঠল সায়ন মুখার্জি। ফেসবুকে ভেসে আসা অনেক খবরের মধ্যে একটি খবরে চোখ আটকে গেল, অস্ফুটে মুখ থেকে বেরিয়ে এল: "আবার শুরু হয়েছে?" সাথে সাথে সন্ধ্যের আবছায়ায় চোখের সামনে ভেসে উঠল একটি পুরনো চিত্রনাট্য। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাস: কুয়াশার চাদরে ঢাকা মফস্বলের এক বিয়েবাড়িতে তুমুল হট্টগোলের মধ্যে মুঠোফোন টা কেঁপে উঠল থরথর করে - একটা বার্তা ঢুকল। স্ক্রিনেভেসে উঠল :   "সায়ন, ইমেল টা চেক কর , আমি যা দেখছি তা বিশ্বাস করতে পারছি না! তুই ইমেল টা দেখে আমাকে ফোন করিস। " - মুঠোফোন এর মাধ্যমে সৌরভ এর বার্তা দেখে সায়ন বিস্মিত ! বিয়ে বাড়িতে সবে নেমন্তন্ন খেতে বসেছে হঠাৎ এই বার্তা। পাতের কচি পাঁঠার থেকে মন এখন পুরো অন্যদিকে ঘুরে গেছে: -  "ধূর কিসের ইমেল, সেটা লিখতে কি দোষ ছিল সৌরভের, তাহলে কি সেই বহু প্রতিক্ষিত বার্তা এসে গেছে! জ্য়েনিং কি দিয়েই দিল অবশেষে?" কলেজ পাশ করেছে ছয় মাস হয়ে গেল সায়ন এর ; কলেজে থাকাকালীনই...

সব পদ এসে মিশে গেল শেষে।।

ছবি
দুম!ধপাস! হঠাৎ করে একটি প্রায় অন্ধকার ঘরে আছড়ে পড়ল একটি বাদামি কোট পরিহিত ছেলে।  আচম্বিতে মেঝেতে পড়ায় বেশ কিছুক্ষণ স্থিরবত নিশ্চল হয়ে ভাবলেশহীন ভাবে পড়ে রইল সে। কেমন একটি অদ্ভূৎ বিসদৃশ ঘ্রাণে তার মন প্রাণ ঘুলিয়ে উঠল। কিছু সময় পরে যখন আশেপাশের অন্ধ্কার পরিবেশ এর সাথে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিয়েছে তখন ছেলেটি বুঝতে পারল ও একটি প্যাচপ্যচে স্যাতস্যাতে ঘরের ভিতর পড়ে রয়েছে, ঘরের চারদিকে একটি লালচে পিচ্ছিল প্রাকার এর অস্তিত্বও অনুধাবন করল।   উফ্ফ, কি থেকে যে কি হয়ে গেল? প্রচন্ড গরম লাগছে, এ কোন যায়গায় এলাম রে বাবা! একটু আগেই তো সেজে-গুজে সভার মাঝে মধ্যমণি হয়ে বিরাজ করছিলাম।  সবাই আমার কত্ত প্রশংশাই না করছিল।  তারপর হঠাৎ ই দেখলাম এক কাঁটায় বিধে এক লকলকে গহ্বরে কেউ আমাকে নিক্ষেপ করল!  উফ্ফ কি পিচ্ছিল গহ্বর ধরে এই ঘরে এসে উঠলাম! কি যে হচ্ছে কিছুই বুঝলাম না।  এই সব ভাবতে-ভাবতেই হঠাৎ আরেকটা আছড়ে পড়ার শব্দ শুনতে পেল ছেলেটি। একটু কষ্ট করে অন্ধ্কারে খুঁজে দেখল ওর মতন আরেকটা ছেলেও আছড়ে পড়েছে মেঝেতে। সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখল সেই ছেলেটিও অজ্ঞান হয়েই পড়ে আছে, একটু ভালো ভাবে ঝুঁকে ...

এসো হে সার্টিফিকেশন, এসো এসো ।।

ছবি
বন্ধুরা, আজ আমিও আপনাদের দলে। হ্যা আমিও সার্টিফিকেশন এর কঠিন পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমিও দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করলাম, আজ আমিও পেরেছি। আচ্ছা বন্ধুরা আপনারা কি জানেন এই শংসাপত্র-অর্জন, ব্যুত্পত্তি লাভ এর পথ কেমন ছিল? কে কিভাবে  উত্সাহ জুগিয়েছে এই সম্মানের পথে এগিয়ে যেতে।  আসুন আপনাদের কাছে খোলসা করে সব বলছি; ওহ হ্যা লিঙ্কদিনের নিয়মে সংক্ষিপ্ত (নিভৃতে বিস্তারিত) ভাবেই বলব!  গত দুই সপ্তাহকাল ধরে আমি এই মহান কার্যে নিমগ্ন ছিলাম, হয়ত সেই সময়ে খেয়েছি-ঘুমিয়েছি, বাকি দৈনন্দিন কার্যকলাপ ও সম্পন্ন করেছি কিন্তু অবচেতনে শুধু এই মহাপরীক্ষার কথাই ভেবেছি। রবিবার দুপুরের অজমাংসের এর ম্যা-ব্যা ধ্বনি কে বর্জন করেছি যাতে লালসার ফাঁদে পড়ে একান্ত অধ্যাবসায় বিঘ্ন না ঘটে। নিজেকে মোহহীন এক ধ্যানমগ্ন তাপসে পরিণত করেছি। এই সময়ে নিপাতনে সিদ্ধ কারকের মতন নিমপাতা সেদ্ধ  গ্রহণ করেছি সামনের পরীক্ষার কথা ভেবেভেবে আকূল হয়ে। ইত্যবসরে নববর্ষের হালখাতা করতে গিয়েও বাধ্য হয়েই নিজের মন কে বুঝিয়েছি : না, এই বছর বেশী দোকানে ঘোরা যাবে না, আমি এখন এক মহা সংগ্রামে অবতীর্ণ। তাই শীঘ্র ঘরে ফিরেছি, নিজের মনকে...

টাইটানিকের অন্ধকার সিলিং থেকে "অদ্য শেষ রজনী"র শেষ আলো।।

ছবি
আচ্ছা বলুনতো আজ থেকে পঁচিশ-তিরিশ বছর আগেও সপরিবারে টাইটানিক দেখতে বসলে গাড়ির দৃশ্য এলে পরিবারের কতজন পর্দার দিকে তাকিয়েছেন আর কতজন হলের সিলিং দেখতে-দেখতে অথবা চোখ বুজে অপেক্ষা করেছেন কখন তিনি আবার স্ক্রিনের দিকে তাকাবেন, না এই ব্যক্তি টি মানে পরিবারের যেকোন সদস্যই হতে পারেন!পুত্র-কন্যা-বাবা-মা-ভাই-বোন-কাকু-মামা সব চরিত্রের কোনো একটিতে তিনি দিব্যি মানিয়ে নেবেন নিজেকে। আসলে তিনি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের  সন্তান যিনি পরিবারের সামনে অন্য অনেক আলোচনায় অবতীর্ণ হলেও যৌন আলোচনা একদম নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করে রেখেছেন; হয়ত দেখেছেন এটাই নিয়ম এটাই হয়ে এসেছে । তাই অন্ধকার থেকে সত্য আলোর উত্তীর্ণের পথে তিনি ভাবতেও পারেননি , এক-চোখে সপরিবারে এক সত্য অবলোকন সম্ভব। চলুন আজ বরং বলি মধ্যবিত্ত মাঝবয়সী বাঙালীর সত্য উন্মোচন এর এক গল্প , হয়ত সেই সমাজ এই রতি-যৌনতা কে এখনো ইনকগনিটো মোডে বা চিলেকুঠির চটির ফাঁকেই লুকিয়ে উপভোগ করে চলেছে। [পুনশ্চ : আহা, না! এই চটি মানে নীল সাদা হাওয়াই চটি না , এই চটি বটতলার সাথে কিছু সম্পর্ক রাখে ঐ আর-কি! ] যাই হোক চলুন দেখি কি সে বিষয় যা এক অবগুন্ঠন কে নিমেষে সরিয়ে দিল। ...

ছাই চাপা আগুন।।

ছবি
খেলার শেষ প্রহরে বলটা যখন উড়তে-উড়তে সীমানা পারকরল, সেই মুহূর্তে সেই চরিত্র কি কিছু বার্তা দিয়ে গেল? ছোট্ট একটা বার্তা ভেসে উঠল দুই চক্ষে : "চাপা আগুন এর স্বপ্নপুরণ"। কি ভাবে সেই স্বপ্নপুরণ হয়ে চলেছে বলুন তো যুগে-যুগে দিনে-দিনে? চলুন একটু খুঁজেই দেখি পাই কিনা অমূল্য স্বপন-রতন ! আচ্ছা,একটা বিষয় পর্যবক্ষেণ করলে অনেক সময়েই দেখবেন নিজের আশেপাশে কর্মক্ষেত্রে-সমাজে-পরিবারে বেশ কিছু চরিত্র থাকে যারা একটু নিষ্প্রভ। তাদের অবস্থান হয়ত থাকে কিন্তু তাদের নিজস্ব প্রতিবেদন থাকেনা, ঐ সবার কাছে একটা সংখ্যা-নাম- আইডি-সম্পর্ক হিসেবেই রয়ে গেছেন তারা। কখনোসখনও  কেউ হয়ত উপহাসের নজরে দেখলেও এদের উপস্থিতি নজরে আসে, তা না হলে সেই এরা যাত্রাপথের চরিত্র হয়েই থেকে যান:  "ওই পঁয়তাল্লিশ নম্বরের ভানুমতী কখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি।" এদের অব্স্থা অনেকটা  নিমন্ত্রণ বাড়ির মহাভোজ থালায় নিতান্ত নুন-লেবুর টুকরো  : মাছ-মাংস-পনির-মিষ্টি র কৌলিন্য যেমন এইসব চরিত্র দের নেই আবার ভাত-পোলাও এর মতন ব্যাপ্তিও নেই, নেই জলের মতন পুণ্য শূণ্য জীবন। তবুও সেই সব চরিত্রের ঠাই জোটে এক কোণে, নিভৃত মনে। দলমত-সমাজ-পরিবার...

শ্রেষ্ঠ বোকার একদিন

ছবি
সারা বছর ধরে বোকামি করে এক বোকা ভাবল, না আজকের দিনে ভিন্ন স্বাদের বোকাদের গল্পই না হয় হয়ে যাক। না না, আপনাদের বোকাবোকা বকবকে বিরক্ত করব না, বরং এই একটু ভিন্নভিন্ন বোকার চরিত্রচর্বনে চালাক চালকের চরিত্র টাও অনুধাবনের প্রচেষ্টা চলবে, চলুন তাহলে শুরু করি। এপ্রিল এর এক তারিখ, পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে  বোকাপল্লী তে একটি বোকাচক্র আলোচনায় বসেছে। মঞ্চের সভাপতি হাসিহাসি মুখে ঘোষণা করল সারা দেশ জুড়ে এই কয়েক জন মনোনীত হয়েছেন এই বছরের শ্রেষ্ঠ বোকা সম্মানের প্রতিযোগিতায়। আপনারা নিজেরাই ঠিক করুন কোন জন শ্রেষ্ঠ, হ্যা অবশ্যই এনাদের মুখ থেকে আপনারা শুনতে পাবেন এদের ভিন্ন বোকাকাহিনী। আসুন শুরু করা যাক: একএক করে সব প্রতিযোগী কে ডেকে নেই কিছু বলার জ্ন্য, আসুন শুরু করুন , দয়া করে করে বলুন আপনাদের বোকামির কাহানী:- প্রথম প্রতিযোগী সভার সবাই কে জোড় হাতে প্রণাম জানিয়ে শুরু করল : নমস্কার,  আমি পেশায় মুদি, নাম বোকামুদি। বাবুরা ভাবছেন এ আবার কেমন নাম? অবাক হবেন না, বলছি কেন এমন নাম। প্রথমেই বলি, এলাকায় আমার দোকানটা তেমন চলেনা, না বাবুরা আমি জিনিষ খারাপ বেচি না আসলে আমার জিনিষ এর দাম টাতো ন্যূনতম করলেও...