সেই দিনটার স্বপ্ন দেখি ভীষণরকম।সপরিবারে এক জার্সিতে বিশ্বকাপ উদযাপন।।

গোওওল! প্রথম বারের মতন জোরালো শর্ট আছড়ে পড়ল বিপক্ষের জালে, ২০০ কোটির দেশবাসী এক কণ্ঠে এক মন্ত্রে বিশ্ব কে জানান দিল আমরাও এসে গেছি! নীল-শার্দুল শাপমোচন ঘটাল, অবশেষে প্রতীক্ষার হোলো অবসান।

: বুঝলে পল্লবের নাতি তোমার দাদু আমার দাদু একসাথে অনেকদিন বসে এই দিনটার স্বপ্ন দেখেছিল, আজকে আমি আর তুমি সেটার বাস্তবায়ন দেখলাম!
ঠিক বলেছ পলাশের নাতি, আজ থেকে এক নতুন ভবিষ্যত এর পথে যাত্রা শুরু হোল, সাথে কিন্তু এক বিশাল ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ও ঘটে গেল নীরবে!

কি! ইতিহাসের পরিসমাপ্তি?কি বলছ কি পল্লবের নাতি!আজ তো ইতিহাস রচিত হোল নতুন ভাবে , দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে আজকের দিন হয়ে উঠল নিজ গুণে উজ্জ্বলঅরুণ, আর তুমি বলছ ইতিহাস মুছে গেল! বিস্মিত আমি তোমার কথা শুনে পল্লবের নাতি! পল্লবের নাতি উদাস নয়নে স্মিত হেসে বলল ইতিহাস তৈরী হবার সাথে সাথে পুরনো অনেক কিছু হারিয়ে গেল আজ! পলাশের নাতি অবাক বিস্ময়ে বলল: কি হারিয়ে গেল? বুঝলাম না! একটু বুঝিয়ে বলো দয়া করে !

পল্লবের নাতি পলাশের নাতির দিকে স্মিত হেসে বলল আচ্ছা বুঝিয়ে বলছি তবে আগে আমাকে বলো : আজ কি তুমি যুবভারতী আসার পথে একটিও আমাদের দেশ ব্যতীত অন্য দেশের পতাকা পতপত করে উড়তে দেখেছ?
পলাশের নাতি একটু ভেবে উত্তর দিল: "আজ আমাদের দেশের খেলা, প্রথম বার নামছি আমরা বিশ্বফুটবলের রঙ্গমঞ্চে সেইখানে অন্য দেশের পতাকার শোভা কেনই বা আশা করব?"

পল্লবের নাতি মুখের স্মিত হাসি ধরে রেখেই জানাল: কিন্তু ভেবে দেখো আমার প্রপিতামহ-পিতামহ থেকে আমার মা-বাবা-কাকা-মামারা
প্রতিবার বিশ্বকাপ ফুটবলের সময়ে কি করত। একএক পাড়া সজ্জিত হোত হলুদ-সবুজ ব্রাজিল বা নীল-সাদা আর্জেন্তিনা বা কখনো কখনো লাল-সাদা-কালো পর্তুগাল বা জার্মান পতাকায়। প্রত্যেক পাড়ায়, অফিসে, স্কুল কলেজ বন্ধুদের মধ্যে কিংবা বাড়িতে পরিবারের মধ্যেই সমর্থক দের মধ্যে উত্তেজনা-বিরোধ শুরু হয়ে যেত। অনেক অনেক তির্যক মন্তব্য, কখনো হাতাহাতিও পর্যন্ত হয়ে যেত। এরকম অনেক অনেক ঘটনা মজার বিষয় এর সূত্রপাত হোত, কালকেই দাদু এরকম একটি ঘটনা বলল,শুনবে? পলাশের নাতি একটু হেসে বলল: হ্যা ইন্টাটেস্টিং টপিক অবশ্যই শুনব! পল্লবের নাতি মাথা দুলিয়ে বলল:  আমার দাদু বলল তাদের যৌবন কালে হোয়াটসএপ বলে বার্তা মিলান্তি মাধ্যম ছিল, সবাই গ্রুপ করে গল্প আলোচনা করত বন্ধু, পরিবার সদস্য বা পরিচিত মহলের মানুষজন মিলিত হয়ে । সেই এক বন্ধুদের গ্রুপে দাদুর দুই বন্ধু ছিল নিয়ামক, তারাই পরিচালনা করত গ্রুপটি। ২০২২ এর বিশ্বকাপের সময়ে ঐ দুই নিয়ামক এর এক জন উত্তেজিত ও ভালোবেসে ফুটবলের রাজপুত্রের ছবি লাগিয়েছিল। অন্য নিয়ামক ছিল রাজপুত্রের বিপক্ষে, সেই বিরোধীপক্ষ কি করেছিল জান?
পলাশের নাতি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল: কি করেছিল?
পল্লবের নাতি শুরু করল:
দাদুর সেই প্রতিহিংসা পরায়ণ বন্ধু ফুটবলের রাজপুত্রের ছবি লগানো বন্ধু কে ভেটো দিয়ে কাউকে কিচ্ছু না বলে নীরবে গ্রুপ থেকে নিশ্চুপ করে দিয়েছিল,
তারপর সেই রাজপুত্রের দলের সম্পর্কে বিরোধী মন্তব্য দিয়ে ভরিয়ে তুলল গ্রুপ। আর নির্বাসিত বন্ধুর তো তখন তেলে দেওয়া লুচির মতন অব্স্থা, রাগে তেলে-বেগুনে ফুলছে কিন্তু কিছু বলতে পারছে না কারণ সে তখন নির্বাসিত এবং নিশ্চুপ, শুধু বার্তা পড়তে পারছে! আর অন্যদিক থেকে বোমাবর্ষণ অব্যাহত! এই নিয়ে দাদুর বন্ধুদের মধ্যে অনেক হাসাহাসি আজও হয় শুনলাম ।
তাই বলছিলাম এই যে মুহূর্তগুলো একযুগে তৈরী হয়েছিল সেই গুলো বিস্মৃত হতে সময় বেশী লাগবে না, নতুন ভবিষ্যত এসে গেলে। এইতো
আমার অষ্ট বর্ষীয় পুত্র তার প্রপিতামহের এই গল্প শুনে বলল: বড়দাদা , তোমার বন্ধুরা কি বোকা ছিল গো! কেউ অন্য দেশের জন্য এইভাবে নিজের বন্ধুদের মধ্যে লড়াই করে ?
তাই শুনে আমার দাদু একটা ছবি বের করল তার ক্লাউড ফোল্ডার থেকে। ছেলেকে দেখিয়ে বলল: আমার আদুরে নাতির পো, এই ছবিটা দেখো: ২০২২ এ এই ঘরে বসে আমি, আমার বাবা, আমার ভাই আর আমার ষড় বর্ষীয় পুত্র মানে তোমার পিতামহ-দাদু ও আছে; এক এক জনের গায়ে এক এক দেশের জার্সি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা-জার্মানি-পর্তুগাল। আর আজকে দেখো আমাদের শরীরে শুধুই নীল জার্সি। এই ভিন্ন জার্সি থেকে নীল জার্সি উত্তরণের মাঝে প্রজন্মের পর প্রজন্ম পার হয়ে গেছে প্রতীক্ষায় অপেক্ষায়, সেই অপেক্ষারও একটা ইতিহাস ছিল উত্তেজনা ছিল। আজ নীল জার্সি পড়ে চোখ দিয়ে জল পড়ছে আনন্দে কিন্ত মন টা একটু হলেও উঁকি দিচ্ছে সেই সব হলুদ-নীল-সাদা জার্সিধারী দের দিকে, এরা আমাদের উঠতি বয়সের আবেগ ভালোলাগা র চিহ্ন ছিল ,
তোমরা অনেক সৌভাগ্যবান যে তোমাদের ভালোলাগা র জন্য নিজের একটা দেশের জার্সি পেয়েছ যা বিশ্বমঞ্চে উড়তে চলেছে ভবিষ্যতে।

গল্প শেষে পল্লব-পলাশের নাতি দেখল ভারত তার প্রথম গোল টি করেছে ব্রাজিল এর বিরুদ্ধে, সাল : ২০৭৮||

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ




মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"