"মাধব, গোপাল এর পরীক্ষা : মাসির শিক্ষা"।।
এক কালে দেখেছিলাম স্কুল এর পরীক্ষা তে এক শ্রেণীর বিশেষ স্যর রা কিছু ছাত্র কে নম্বর দেওয়া তো দূর, সুযোগ পেলেই নম্বর কাটত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ই দেখা যেত এই ছাত্র রা তার কাছে পড়ত না। তবে সেই বিশেষ শ্রেণীর স্যর হয়ত সব স্কুল এই ছিল, কিন্তু সংখ্যা য় নগণ্য।
তো যেই ছাত্র ছাত্রী র নম্বর টা কাটলেন তাদের মধ্যে এক দল শ্রেনী কক্ষে রোল নম্বর এর সংগ্রাম এ যোগ্যতম এর উদবর্তন বিবর্তন এর মধ্যমে সেই স্যর এর স্পেশাল ক্লাসে এসে অস্তিত্বের সংকট থেকে মুক্তি পেত। তাদের অভিভাবক রাও পুলকিত, উদ্ভাসিত ।। পরীক্ষার আগে স্যর যা বলবেন স্যর যা দেবেন সুশীল বালক বালিকা সেই প্রসাদ এই খুশী, অভিভাবক রা রেজাল্টে অভিভূত।।
আরেক দল পুরো চ্যালেঞ্জ নিবি না "বউ এর ভাই" টাইপ। তাদের কথাই ছিল
আপনি মারবেন স্কুলের পরীক্ষা তে ।
আপনার অহংকারের লাশ ফেলব বোর্ড এক্সামে।। এবং অধিকাংশ তাই হত। সেই স্যর এর বিশেষ ক্লাস না করা অজ্ঞ ছেলে মেয়ে টিই হয়ত হোত ডাক্তার , ইঞ্জিনিয়ার, সাহিত্যিক ঐতিহাসিক বা বিজ্ঞানী বা কিছুই নয় ।। কিন্তু পুর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে অজনার সাথে লড়াই এর জন্য প্রস্তুত থাকত। পুরো বই এর সিলেবাস এর মতন পুরো জীবনের অভিজ্ঞ্তা বুদ্ধি নিয়ে নতুন পুরনো, চেনা অচেনা, অজানা প্রশ্নের সম্মুখীন হত জীবনের লড়াই এ।
এদিকে পরবর্তি জীবনে স্যর এর সেই সুশীল ছাত্র ছাত্রী যে কোন যায়গা তেই একটা পিঠের সাপোর্ট চাইবে, নিজের যোগ্যতা র থেকেও ঠেস মূল খুজে শ্বাস মূল এর ব্যবস্থা করবেই। কারণ সে জেনেই গেছে চেনা ছক চেনা সমস্যা র বাইরে কিছু আসবে না তার জীবনে, আসতে পারেনা। আসলে সে টিকবে না।
বিদ্যাসাগর মহাশয়ের গোপাল আর মাধব সব যুগেই থাকে।। মাধব আর মাধবের অভিভাবক মাসি র আনন্দ সাময়িক মাত্র 61 মাসের, কিন্তু গোপাল এর আত্মবিশ্বাস এর কাছে মাধব এর শঠতা পরাজিত হবেই (77 তো 61 এর থেকে বড় হবেই)।
শেষে মাধব মাসি র নাক কান কেটে মাসি কে দোষ ত্রুটি দেখিয়েও দেবে।।
সব চরিত্র কাল্পনিক নয় , বাস্তব এর সাথে এর মিল থাকলে ভবিষ্যত এর মাধব , তার মাসি পিসি রা সাবধান হোক। গোপাল সুবোধ কিন্তু সুবোধ বালকের জেদ বিষম, বীর সিংহ এর মত ভয়ংকর , তার ভিত্তি স্বয়ং 🙏🏼বিদ্যাসাগর🙏🏼 ।।
©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন