মেষ এর জল ঘোলা

বুড়ো বাঘ টা হালুম করে বলল তুই না তোর বাবা, না হলে তোর ঠাকুর্দাই জল ঘোলা করেছিল। তোর রেহাই নেই আজকে। 
মেষ যুবক হেসে বলল : 
 দাদু ,ঐ সব গল্প অন্য যায়গায় দাও । বুড়ো হয়েছ সেন্টু দিয়ে আমাকে ঘায়েল করে লাভ নেই । তোমার নাতির সাথে আমার চুক্তি হয়ে গেছে । 
বাঘ বিরক্তি সহকারে বলল :  
বাঘে গরুতে তাও জল খায় শুনেছি, তুই একটা বাচ্চা মেষ, তোদের সাথে আমাদের খাদ্য খাদক সম্পর্ক, সেই খানে চুক্তি টুক্তি আবার কিসের। তোদের দেখব আর গিলব টপাটপ।
মেষ একটু হেসে বলল : 
ধীরে স্যর ধীরে। জানি বয়স হয়েছে তাই এখনো জঙ্গল এর প্রাচীন প্রবাদেই আটকে আছ। আমরা এখন জেন এক্স । তোমার নাতি আর আমি এই আইন টা বানিয়েছি যাতে রাজা প্রজা সরকার বিরোধি সবাই এটা মেনে নেয়। 
বাঘ ভুরু কুচকে বলল: 
 তা কি আইন শুনি। বার বার আমার নাতি র কথা বলছিস বলে তোর কথা শুনছি,না হলে এতক্ষণ তুই হজমোলা হয়ে যেতিস। যাই হোক বল, শুনছি আমি ।
মেষ বলল : 
 দেখো  দাদু খাদ্য খাদক সম্পর্ক তো মানতেই হবে। কিন্তু সে জন্য এত কর্মক্ষম, সময় , এপাং ওপাং ঝপাং না করে আমরা  কৃষ্ণের এক উপায় ব্যবহার করব। মেষ দলে অনেক অপরাধী মেষ থাকে। তাদের আমরা শাস্তি দেওয়ার থেকে তোমাদের কাছে ঠেলে দেব নারায়ণী সেনার মতন । এতে তোমরাও ড্যাং ড্যাং করে শিকার পেয়ে যাবে আর আমরাও সমাজে অপরাধী দের বেশ কড়া শাস্তি র ভয় দেখিয়ে দেব।
বাঘ দু চোখ কপালে তুলে অবাক হয়ে বলল : 
সে তো বুঝলাম রে, কিন্তু এর পর যখন তোদের মধ্যে কেউ শাস্তির ভয়ে অপরাধ করবে না কি করবি ? তখন তো সেই জঙ্গল রাজ এই ফিরতে হবে। 
মেষ মিটি মিটি হেসে উত্তর দিল :
 আগ্গে না মশাই । সেটাও ভেবেছি। হ্যা অপরাধ কমে গেলে তখন আমরা অনুসরণ করব মহাভারতের বক রাক্ষস নীতি। প্রতিদিন এক জন করে মেষ কে পাঠাব আপনাদের ভোজে, না একটা বনে আপনাদের বংশ বৃদ্ধি হয় যোগ এর নিয়মে এক রাজা এক নীতি তে, আমাদের বৃদ্ধি হয় গুণ গুণ করে অনেক অনেক করে । ভোজের অভাব হবে না। 

বাঘ মন দিয়ে শুনে গম্ভীর স্বরে বলল : 
সে তো বুঝলাম রে ছোকরা কিন্তু বসে বসে খেলে কুবের এর ধন ও শেষ হয় , আমদের ভবিষ্যত প্রজন্ম যদি নিজে থাবায় শীকার করা ভুলে যাই , তোদের দান খয়রতির খাবার খাই শেষে তো একুল ওকুল দুকুল ই যাবে রে। সেটা কি ঠিক হবে রে, আমরা বাঘ এর জাত শেষে বোনপো বিড়াল এর মত হয়ে যাব । 

মেষ এই বার গম্ভীর হয়ে বলল দেখো বাঘ দাদু সব বিষয়ে ঘেউ ঘেউ করোনা ডগি জ্যেঠু দের মতন। তোমাদের যারা কর্মক্ষম সেই মধ্য যুব বাঘ সমাজ এই বসে খাও ভাণ্ডার এর ব্যবস্থা মেনে নিয়েছে । তোমার নাতি তো খুব খুশী এই ব্যবস্থায়। ও আরামে বসে বসে খাবে আর কি চাই ওর, ও তবুও বলল : একটা মেষ সবার জন্য কম পড়ে যাবে মেষ ভাই মাত্র ৫০০ গ্রাম মাংসে আমদের শরীর টিকবে না, বেচে থাকব শুধু। 
আমি বললাম : কি করব বলো এর বেশী আর সাধ্য নেই। তা তুমি যদি এই চুক্তি ভেঙ্গে আমাকে খাও কাল থেকে খাওয়ার জুটবে না, কারণ তুমি বন থেকেই বিতাড়িত হবে। 

বাঘ আগুন চোখে বলল চুপ কর !!!!! আমি এখনো বেচে আছি। এত বড় কথা । আমি এখানে রাজত্ব করেছি আর তুই বলিস আমি বিতাড়িত হব ।

মেষ হেসে বলল দাদু তুমি এখন শূণ্য। তোমার নাতি আমাকে এই ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য মন্ত্রী করে  দিয়েছে । তুমি চুপ চাপ মেনে নাও ,
যদিও তুমি আমার বাবা দাদু কে মেরেছ তবুও তোমাকে আমি বীরশ্রী বলে উপাধি দেব। এক্সট্রা ১00 গ্রাম মাংস বেশী পাবে। 

বাঘ ধূসর ভবিষ্যত কে প্রণাম করে বলল তোর বাবা ঠাকুর্দা যা পারেনি তুই তাই করে দিলি রে ছোকরা । 
জল না, তুই পুরো বন টা কেই ঘুলিয়ে দিলি আজ। এরপর যে কেউ এসে বনের দখল নিয়ে নেবে, বনের রাজা যে মেষ হয়েছে আর বাঘ হয়েছে বিড়াল। এই বন শেষ হয়ে যাবে। 

মেষ আসতে আসতে হাসতে থাকল। 
(এখানে সব চরিত্র কাল্পনিক)

©️অভ্রজ্যোতি ঘোষ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া

"চল, হয়ে যাবে !"

"এন্ড তাক সব কুছ ঠিক হো যাতা হ্যায়।"