পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

হাতুড়ি অনেক আছে শ্রমিক দেবতার সাথে।একটি ছাড়া, বাকি গুলোর দাম নেই শ্রমিকের হাতে।।

ছবি
হাতুড়ির হাতল টা ছিটকে পড়ল মাটিতে। ভেঙ্গে দুই খন্ড হয়ে গেছে। দিনের নিভু আলোয় ভাঙ্গা হাতুড়ির দিকে তাকিয়ে দুশ্চিন্তার কালো রেখার ভাঁজ টা গাঢ় হোলো কপালে - এখনো বেশ কিছুটা কাজ বাকি, দিনের আলোও প্রায় শেষ হতে চলল। হায় ভগবান! কি করব এখন? আজ কাজ শেষ না করলে তো বাড়িতে চুলাও ধরবে না রাতে। মালিক তো একটা পয়সাও দেবে না অর্ধেক কাজের জন্য। আবার কি একটা অভুক্ত রাত আসতে চলেছে? কিন্তু কি উপায় হবে এখন, হাতুড়িই তো ভেঙ্গে গেলো। পাথর ভাঙ্গব কিভাবে? দুশ্চিন্তায়-হতাশায়-ভয়ে ইষ্ট দেব কে ডাকতে শুরু করলো। সেই কাতর ডাক শুনে বিশ্বকর্মা র ঘুম ভেঙ্গে গেলো। সে তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাবে তাকিয়ে দেখছে কাতর হয়ে আকুল ভাবে তাঁকে ডেকে চলেছে পাথর ভাঙ্গা মানুষ টা। অগত্যা ভক্তের প্রাণের ডাকে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে এলো সমস্যা সমাধানে। সেই অভাগার সামনে আভির্ভূত হয়ে বললো- হমম, তোমার হাতুড়ি ভেঙ্গে গেছে তাই তো? একটা হাতুড়ি দিলেই ঝামেলা মিটে যাবে। কিন্তু তুমিই বলো বদলে তুমি আমাকে কি দেবে?  সেই হতভাগ্য মানুষ টা হঠাৎ সামনে ইষ্ট দেব কে দেখে বিহ্বল। সেই বিহ্বলতা র আবেশেই বললো হে দেব বলুন কি চাই আপনার? আমারতো দেবার তেমন কিছু নেই। আপনি আরাধ্য ,আপনি...

এসো হে ঋতু এসো রচনা। অনেক পুণ্যে এই ফল ছিলো পাওনা।।

ছবি
এসো হে ঋতু এসো রচনা। অনেক পুণ্যে এই ফল ছিলো পাওনা।। ঐ রচনা আর ঋতুর কথা বলছিলাম। এইটি হোলো অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি বিষয়। আহা না, ধোয়ার আড়ালে অদ্ভুৎ অট্টহাস্যর এক নম্বর দিদি- অভিনেত্রী দের কথা না। এটা হোলো প্রকৃতি পর্যায়ে।এইতো বুঝে গেছেন নিশ্চয়ই। ঠিক ধরেছেন-  এটা হোলো বার্ষিক বা ষান্মাসিক পরীক্ষায় পর্যায় ক্রমে আসা কমন রচনা-  "তোমার প্রিয় ঋতু"। এই গরম তাপপ্রবাহে হঠাৎ মনে পড়ল এই বিষয়টা।মনে পড়ছে?  ভূমিকাতে সেই গ্রীষ্মকাল থেকে শুরু করে টুক টুক করে বর্ষা,শরত, হেমন্ত শীত ও বসন্ত হয়ে আমরা ছয় ঋতু কে খাতার পাতায় তুলে ধরতাম। তারপর টুক করে কর্ড লাইন ধরে  প্রিয় ঋতুর নাম টা উল্লেখ করতাম আমরা সবাই। হঠাৎ মনে পড়ল একবার আমি এই কমন রচনায় একটা আনকমন কাজ করে এসেছিলাম। সেদিন সবাই যেখানে শরত - বসন্ত এর মধ্যে বাইনরি তে পছন্দ করেছে, কয়েক জন শীত নিয়েও লিখেছে- আমি ভাবলাম একটা ব্যতিক্রমী কিছু লিখি। বর্ষা কালে যেহেতু বিকেলে খেলা যেত না তাই তখন বর্ষা কাল কে দুই চক্ষে দেখতে পারতাম না। অতএব থোড়া সা হাটকে কিছু লিখতে গিয়ে খাতায় লিপিবদ্ধ করলাম- গ্রীষ্মকাল প্রিয় ঋতু। এতো বছর পরে ঋতুর দল চেঞ্জ করে ভ...

দণ্ডিতের সাথে দন্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে, সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার- তখনই হবে। মন, বড়ো অবুঝ এই মন কিছুতে ভাবেনা হায়!

ছবি
শিক্ষা দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য তোলপাড়। কোর্টের এক স্পর্শে ২৫০০০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মী র জীবন হঠাৎ এক অন্ধকার টানেলে প্রবেশ করেছে। সেই নিকষ কালো টানেল এর শেষে আদৌ আলো আছে কি নেই সেটাই চতুর্দিকে আলোচ্য। ভেসে উঠছে অনেক গুলো ভাবনা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আপনি-আমি আমরা সমাজ কি চাইছি- কি ভাবছি?  সবাই কি দুষ্ট এর দমন শিষ্ট এর পালন চাইছি একযোগে? কিছু মতবিরোধ মতপার্থক্য কি দেখা যাচ্ছে? আসলে, আমাদের মধ্যেই কিন্তু কোর্টের বিচারের উপর ভিত্তি করে সমাজিক বিচারে শ্রেনীবিভাগ প্রত্যক্ষ হচ্ছে। সেটাই ফুটে বেরচ্ছে বিতর্কে আলোচনায়; চায়ের দোকানে-অফিস আড্ডায়- বাজারের পথে অথবা সমাজমাধ্যমে ফেসবুক-হোয়াটসএপ-টুইটারে। একটা মানসিক- মানবিক সূক্ষ শ্রেনীবিন্যাস এর চরিত্রও প্রকট হচ্ছে ধীরে ধীরে। কিভাবে?   সবাই শিক্ষক দের নিয়েই বলছে। আমরা না হয় শিক্ষক দের নিয়ে যারা এতো ভাবছে, আলাপ-আলোচনা করছে সেই মানুষ গুলো - অর্থাৎ আমাদের নিজদের নিয়েই একটু ভেবে দেখি, আজ। চলুন তাহলে নিজেদেরকে নিজেরাই দেখি - দেখবেন নাকি নিজদের সমাজের ভিন্ন চরিত্র গুলোকে?   - ঐ তো, ঐ যে দেখতে পাচ্ছেন; প্রথমেই রয়েছেন একদল মানুষ। এ...

পাঠপ্রতিক্রিয়া পর্ব- ৩ (রাজনৈতিক পুস্তক)।"সঞ্জয় কহিল কথা"

ছবি
গণতন্ত্রের উৎসবের চাদর গায়ে জড়িয়ে দেশ আজ  সেজে-জেগে উঠেছে। ভোটের বাজারে বসন্ত মাঝারে মনের কোণে বেজে উঠলো- যাওয়ার আগে একটু রাজনৈতিক জ্ঞানের পরশ জাগিয়ে দিয়ে যাও, জ্ঞান যে মোর মর্মে লাগে।  ভোট এলেই একটি বোতাম জোশে জোর্সে  টেপা আর কালির ছাপ তর্জ্নী তে অর্জন করে সেল্ফি দেওয়ার বাইরে কখনো টুপ করে নেমে আসা এই প্রশ্ন গুলো কি ভাবায় আমাদের?  -  কি এই ভোট? কেন এই ভোট?  আজ যা ভোটের ইস্যু তা আগে কি কখনো ছিলো? এই একই ইস্যু পরেও কি দেখতে পাওয়া যাবে? এই ভোটের কুশীলব রা আদতে কি ভাবে জন-গণ-মনের অধিনায়ক থেকে ভাগ্যবিধাতা হয়ে ওঠেন? কি সেই ঘটনা যা ব্যতিক্রমী হয়ে ওঠে? ঠিক এই ব্যাকুল প্রশ্ন মাঝেই দেখি বইমেলা থেকে কিনে ওঠা বইগুলি টুকিটুকি খেলছে। তারপর আর কি- পুনে যাওয়ার সময়ে একটা বই তুলে নিলাম যাত্রীসাথী হিসাবে- তারপর একে একে তিন চারটি রাজনৈতিক বই শেষ করলাম। ভাবলাম নিজের ছোট্ট খুপড়িতে "রাজ"বাইট গুলো ধরে রাখার আগে একবার লিখেই রাখি ব্যাসদেবের অনুপ্রেরণায়। সেই ভেবে আজ প্রথম বইটির ব্যপারে একটু কিছু প্রকাশ করি। দেখুন দেখি ব্যাসদেবের অনুপ্রেরণায় সেই যুগে সঞ্জয় চুপচাপ এইভাবেই বলে গিয়েছিল র...

নীল পুজোর সাথে ছাতু উড়ানো।সাথে থাকুক অনেক বিচিত্র খাবার বানানো।।

ছবি
বাংলা বছরের শেষ দুইদিন বাড়িতে একটু অন্য ধরনের আমেজ। একদিকে পুজো পার্বণ আরেকদিকে পারিবারিক নিয়ম ঐতিহ্য । সাথে দুই দিনের বেশ অন্যরকম খাওয়া দাওয়া। এই যেমন নীল পুজো তে বাড়ির পুত্রের মায়েরা একসাথে বেশ ঘটা করে নির্জলা উপোস করবে। হাজার প্রচেষ্টাতেও সেই নিয়মে খেদ দিয়ে কিছু খেয়ে বা জলপান এর প্রস্তাব কে মা-বৌমা দুজনেই ভস্মীভূত করে দেয়।যাই হোক, আমার ও বাকি তিন জনের আসল নজর থাকে পুজো শেষ এর জল ঢালার পরের সেই পুণ্য লগ্নের। একে একে প্রসাদ হিসাবে থালায় উঁকি দেয় সেই সব বিরল বাত্সরিক খাবার গুলো।আহা, বেল এর শরবত- চালকলা দই গুজিয়া দিয়ে মাখা-ভেজা ডাল মাখা আর তারপরে সেই বিখ্যাত প্রতিক্ষিত খাবার টা- তুমি আসবে বলেই: এক বাটি সাবুদানা মাখা। দুধ-কলা-সন্দেশ- নতুন তালের গুড় আরো কতো কি মিলে মিশে মন পেট দুটোই ভরিয়ে তোলে। যাই হোক, এতো গেলো নীল পুজোর দিনের খাদ্য বিবরণ । এর পরের দিন আরো দুটি আনুষ্ঠানিক বছর বিদায় পর্ব পালন করা হয়। স্নানের পরে বাড়ির ক্ষুদে র মাধ্যমে ঘটে এই পারিবারিক প্রথা টি। এক হাতে ছাতু আর আরেক হাতে ছাই নিয়ে ধোনির মতন স্টান্স নিয়ে উইকেট না দেখে একে একে শত্রু কে ছাই দিয়ে নিধন আর  মিত্র...