পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

২৯ ঋ-ডবল!

ছবি
অফিসের ব্যস্ত ল্যাপটপের এর পাশ থেকে আনমনে হঠাৎ নীরব মোবাইল টা কেপে-গেয়ে-বেজে বেঁচে উঠল। স্ক্রিনে একটা ছোট্ট নাম ভেসে উঠতেই শত ব্যস্ততা-বিরক্তির মধ্যেও মরূদ্যান এর সন্ধান পেল অর্ঘ এর কাজে নিমজ্জিত কর্পোরেট মন! ওর আট বছরের ছোট্ট ছেলে বুবাই বাড়ির থেকে ফোন করেছে তার আদরের বাবাকে। এই সব আদুরে ফোনে হাই-হ্যালোরা টাটা-বাইবাই করে সোজাসুজি কথায় বেঁচে ওঠে: আমার সোনা বুবাই, স্কুল থেকে এসে গেছিস? সব ঠিক আছেতো? ওপার থেকে এক নি:শ্বাসে এতো গুলো কথা শুনে বুবাই এক কথায় উত্তর দিলো -হ্যা । তারপর বাকি প্রশ্ন কে প্রশ্রয় না দিয়ে প্রবল উত্সাহে বলে উঠল- জানো বাবা, আজ স্কুলে কি হয়েছে ? অর্ঘ উৎসুক মনে জিজ্ঞেস করল- কি হয়েছে রে? -আজকে একটা মজার ঘটনা হয়েছে। আজ স্কুলে টিফিনের সময়ে আমরা বন্ধুরা মিলে একটা ফুটবলের দল তৈরী করেছি , আজকেই দলটার জন্মদিন হোলো। কিন্তু মজার ব্যপার কি জানো? মিস একটু পরে বললো পরের বছর ফুটবল দলের এই জন্মদিন টা আমরা আর পালন করতে পারব না! স্কুলে বাচ্চারা খেলার ছলে ফুটবল দল করেছে দেখে অর্ঘ বেশ খুশী হয়েছে, সেই খুশীর মেজাজে হঠাৎ পরবর্তী বছরে এই দল কেন জন্মদিন পালন করতে পারবে না, জানতে মন চাইল অর্ঘর।...

পাঠ প্রতিক্রিয়া: তৃতীয় পর্ব [লালি, ব্যূহ, নেতাজীর গুপ্তচর, কলিকাতার গুপ্তমঠ]

ছবি
সদ্য সমাপ্ত বইমেলা থেকে সংগৃহীত আরো কিছু বই এর পরবর্তী পাঠ প্রতিক্রিয়া। এই পর্বে চারটি বিষয় ধরা দিয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে। কিছু বিষয় হয়ত প্রবন্ধের মাধ্যমে গভীর গম্ভীর আলোকপাত করেছে অজানা অন্ধকারে, আবার কিছু বিষয় হয়তো গল্পের মোড়কে পরিবেশিত হয়েছে। এর আগে, শেষপাঠ প্রতিক্রিয়ার বিষয় ছিলো ৯০ এর দশকের কোচিং প্রেমের হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার খোঁজ (রবে নীরবে) ও ৭০ এর দশকের উত্তাল অগ্নিগর্ভ সময়ের নিরিখে শহুরে ভালোবাসার কথা(রক্ত গোলাপ)। তারপর... এইবার একটু এগিয়ে দেখা যাক সত্তরের সেই রক্ত আগুন পরবর্তী তে কিভাবে গ্রামে জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ল জঙ্গল মহলের  "লালি" কাহিনীতে লাল রঙের ভালোবাসার রক্ত পলাশে। ষষ্ঠ পাঠপ্রতিক্রিয়া: সৃষ্টি : লালি স্রষ্টা: চন্দন গরাই। প্রকাশক : পঙ্কজকুমার বসাক। জঙ্গল মহলে বঞ্চনা-অত্যাচার-বিদ্রোহ-মাওবাদ এর প্রেক্ষাপটে রচিত ভালোবাসার গল্প লালি; এখানে নিপীড়ন অত্যচার বঞ্চনা সংগ্রাম মিশেছে অসম বয়সী ভালোবাসায় - সাহসী জঙ্গলকন্যার জীবনীশক্তির মাধ্যমে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এটি "ভৈরব বাঁকির মেয়ের" পরবর্তী অংশ। লেখকের ভাবনার স্পর্শে জল-জঙ্গল-বন্যপ্রাণ সঞ্জিবনী মন্ত্রে জেগে উঠে কল...

খেলার মধ্যে লেখা। আগামীর বাংলা শেখা।।

ছবি
ধুত্তোর, এই প্যাপ্যা আওয়াজ টা তুই বন্ধ করবি কিনা বল? তখন থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিরামহীন ভাবে মোবাইল দেখেই চলেছিস। বইমেলা থেকে এতো সুন্দর সব গল্পের বই নিয়ে এলি, একটাও উল্টে দেখেছিস এর মধ্যে? না শুধু মোবাইল আর মোবাইল। রাগে বিরক্ত হয়ে মনার কথা গুলো আছড়ে পড়ল মোবাইলে মগ্ন সাত বছরের ছেলে বুবাইর কানে। তুমি আমার পানে চেয়ে থাকো মুডে মায়ের পানে না তাকিয়ে মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ সেটে দিয়েছে। মা কিছু উত্তর আশা করছে বুঝে ঝড়ের বেগে দায়সারা উত্তর একটা দিলো- সব বই পড়া হয়ে গেছে মা, তাই মোবাইল দেখছি, গেম্স খেলছি। এই কথা বলার পরমুহূর্তেই আবার হঠাৎ আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে চেঁচিয়ে উঠল- গোওওল, মেসি কে দিয়ে ফিফা গেমসে গোল দিলাম আমি, ইয়েস মেসি-ইয়েস মেসি। তারপর উত্তেজিত স্বরে গাইতে থাকলো- "বারা বারা বারা, বেরে বেরে বেরে - ওলালা মা লাই লা"। এদিকে সব বই পড়ে নিয়েছি শুনে বিস্মিত মা যখন সবে অগ্নিশর্মা হয়ে কি কি বই পড়েছে জিজ্ঞেস করতে যাবে ঠিক তার আগেই, তার সামনেই  বিনা মেঘে "বারা বারা বারা, বেরে বেরে বেরে" বারি ধারা মুষলবেগে আছড়ে পড়েছে! ছেলের গানের লিরিক্স এর প্রভাবে ভূতের রাজার বরের ভরে থতমত খেয়ে একদম ...

পল্, দলছুটের পল্।আজ আবার ফিরেযাই চল।।

ছবি
হা মেরে সাথ চল...(প্রথম পর্ব ) গাড়ি টা এসে সিসিডির পাশে সঙ্কোচে ব্রেক কষলো। দোকানের সামনে অপেক্ষারত এক বিরক্ত মুখের উপর ক্ষমাপ্রার্থনা আছড়ে পড়ল থমকে যাওয়া গাড়ির ভিতর থেকে- সরি ভাই, অনেক দেরি হয়ে গেলো। তোকে অনেকক্ষণ ওয়েট করালাম।চল উঠে পড় জলদি, পিকনিকে পৌছতে দেরি হয়ে যাবে। এই কথা শুনে অভি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল- আরে না দু:খ পাওয়ার কিছু নেই অর্ঘ, মাত্র তিরিশ মিনিট ওয়েট করিয়েছিস আজ।  কালকে ফোনের পরে ভেবে দেখলাম স্কুলছুট এর পরবর্তীতে ঐ কুড়ি বছরের অপেক্ষার অবসান হবে আজ। প্রায় কুড়ি বছর পরে তোকে দেখছি।একাকী তিরিশ মিনিটের অপেক্ষার প্রতিক্ষণ-প্রতিপল ছিল কুড়ি বছরের অপেক্ষা অবসানের উত্তেজনায় নিমগ্ন , কুড়ি বছরের অপেক্ষা হয়তো আরেকটু বাড়লো, আধঘণ্টা ই তো, ঠিক আছে চল। সরে বোস আর শীঘ্র গাড়িটা চালা এবার, দৌড় দেই পিকনিকে বাকি বন্ধুদের দলে, একসাথে পুরনো বন্ধুদের খোঁজে।। হাম রহে না রহে ইয়াদ রহে কাল.... (মধ্যম পর্ব ) অভি কেমন আছিস? এতো দিন পরে দেখা, জানিও না কোথায় আছিস, কি করছিস? কালকে বিকেলে যখন ফোন করে জানালি যে আমার সাথে একই রুটে পিকনিকে যাবি; প্রথমে সত্যি আমি বুঝতেও পড়ছিলাম না কোন অভি তুই? হ...